শিরোনামঃ
বাই দ্য রিভারস অব ব্যাবিলন – ৮ এসআরবির মহাপরিচালকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৭ কর্মকর্তাকে বদলি সরকার বিরোধী দল দমনে তৎপর, ফ্যাসিস্ট দমনে নমনীয়: নাহিদ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এবার আলাদা কমিটি গঠনের চিন্তা ১১ দলীয় ঐক্যের সরকারের অদক্ষতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানো হচ্ছে: জামায়াত আমির ‘রাইট ট্র্যাকে’ রূপপুর প্রকল্প, দ্রুতই মিলবে বিদ্যুৎ: প্রযুক্তিমন্ত্রী ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির চট্টগ্রাম কাস্টমসে চার মাসে ২৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

বাই দ্য রিভারস অব ব্যাবিলন – ৮

বাদল সৈয়দ / ৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

আমার পুরো দৃশ্যটা অপার্থিব মনে হচ্ছে। জ্যোৎস্নায় ভেসে যাওয়া সমুদ্রের তীরে হারিক্যানের আলোয় দুনিয়ার সেরা সুন্দরী একটি মেয়ে কী আকুল কণ্ঠে শতাব্দী সেরা একটি প্রেমের গান গাইছে!
মনে হচ্ছে, এ দৃশ্য এ গ্রহের নয়, অন্য কোথাও এটা অভিনীত হচ্ছে।
গান গাইতে গাইতেই পলিন ব্যাগ থেকে লিপস্টিক নিয়ে ঠোঁটে বুলাতে লাগল। আমি হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলাম, এই রাতেও লিপস্টিক! বোঝা যাবে?”
“যারা বুঝে তারা ঠিকই বুঝে, কীর্তন গাওয়া গেরুয়া সন্ন্যাসীই শুধু বুঝে না।”
“এ লিপস্টিক নিয়ে কিছু কথা ছিল পলিন, বলব?”
“এটা নিয়ে কী কথা?” অবাক কণ্ঠে ও জিজ্ঞেস করল।
“তোমার মনে আছে প্রথম যেদিন তুমি কুতুবপালং ক্যাম্পে গেলে তোমার হাত থেকে লিপস্টিক ছুটে গিয়েছিল। আমি তা লুফে নিয়েছিলাম?”
“কেন থাকবে না? ইট ওয়াজ আ গুড ক্যাচ।”
“তারপর আমি তা তোমার হাতে না দিয়ে কয়েকবার উপরে ছুড়ে আবার লুফে নিয়েছিলাম?”
“হ্যাঁ, কিন্তু হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন?”
‘ সেটা করার কারণ ছিল।”
“কী কারণ?”
“নরমালি ক্যাপ ছাড়া একটি লিপস্টিকের ওজন হয় সর্বোচ্চ চার দশমিক তিন গ্রাম। কিন্তু তোমারটা প্রথম হাতে নিয়েই মনে হলো এর ওজন বেশি। কমপক্ষে আট গ্রাম। কিন্তু তাতো হওয়ার কথা না। দুনিয়ার কোনো কোম্পানিই এত বেশি ওজনের লিপস্টিক বানায় না। তাই তা তোমাকে না দিয়ে আরো তিনবার উপরে ছুড়ে ট্রাই করলাম। প্রতিবারই কনফার্ম হলাম সেটার ওজন নরমাল লিপস্টিকের চেয়ে বেশি। বাট হোয়াই?
উত্তরটা আমিই দেই পলিন, কারণ তোমার লিপস্টিকের কনটেইনারে রঙ ছাড়া আরো কিছু আছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা শান্তিতে নেই। অনেকগুলো দেশী বিদেশী চক্র এটা নিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। আমরা পাল্টা মাথা খাটাচ্ছি তা ঠেকানোর। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তোমার ঠোঁট রাঙানোর ওই বস্তুটি আমার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সেজন্যই সেদিন আমি জ্বরের ভান করে তোমার সাথে না গিয়ে এখানে রয়ে গিয়েছিলাম। আই আম সরি, পলিন, তুমি চলে যাওয়ার পর আমি ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহার করে তোমার রুমে ঢুকেছি। তারপর তোমার কসমেটিক বাক্সের প্রতিটা লিপস্টিক পরীক্ষা করেছি। মোট এগারোটি। আরেকটি পরীক্ষা করতে পারিনি কারণ সেটা তোমার সাথে ছিলো। আমি সেগুলোতে কী পেয়েছি জানতে চাও?”
“রঙ ছাড়া আর কিছু পাওয়ার কথা না । তবে তুমি যে গোপনে মেয়েদের রুমে ঢুকার মতো পারভার্ট তা আগে বুঝিনি।” তার কণ্ঠে শ্লেষ।
আমি তা এড়িয়ে গিয়ে বললাম, এগারোটি লিপস্টিকে এগারোটি ট্রপেল ক্যামেরা। সত্তর দশকে আমেরিকানরা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে স্পাইরা ব্যবহার করার জন্য আধা ইঞ্চির মতো ছোটো সাইজের এ ক্যামেরা বানিয়েছিল। এ ছোট্ট জায়গার মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছিলো লেন্স, ফিল্ম এবং শাটার। মাত্র এগারো ইঞ্চি দূর থেকে এ ক্যামেরা অটোমেটিকভাবে একশোটি পর্যন্ত ছবি তুলিতে পারত। এর স্টান্ডার্ড ‘অপারেশন মেথড’ ছিল ছেলেরা তাদের ফাউন্টেইন কলম আর মেয়েরা তাদের লিপস্টিক কনটেইনারে লুকিয়ে রাখবে। রেগুলার সাইজের তিন ইঞ্চি লম্বা লিপস্টিকের মধ্যে এটি লুকিয়ে রাখা কোনো ব্যাপার না। ছবি তুলতে হলে কলম বা লিপস্টিকটি এগারো ইঞ্চি দূর থেকে তাক করলেই হলো। সি আই এর বিখ্যাত রাশিয়ান এজেন্ট ‘তোলকাচেভ’ এ ক্যামেরা ব্যবহার করেই নিজের দেশের সব সামরিক সিক্রেট আমেরিকানদের কাছে পাচার করেছিলেন। এজন্যই তাঁকে বলা হয় ‘বিলিয়ন ডলার স্পাই’। তোমার ক্যামেরাগুলো অবশ্য তোলকাচেভের চাইতে অনেক অ্যাডভানসড। অনেক বেশি অ্যাফিশিয়েন্ট। এসব ক্যামেরার ফিল্মে আমি কী পেয়েছি তুমি শুনতে চাও?”
পলিন কোনো কথা বলছে না। একমনে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে অসীম শূন্যতা।
আমি প্রায় চিৎকার করে বললাম, কেন? পলিন, কেন?
পলিন চুপ করে আছে। তার চোখ নিচের দিকে, যেন পায়ের নখ দেখছে।

আমার পুরো দৃশ্যটা অপার্থিব মনে হচ্ছে। জ্যোৎস্নায় ভেসে যাওয়া সমুদ্রের তীরে হারিক্যানের আলোয় দুনিয়ার সেরা সুন্দরী একটি মেয়ে কী আকুল কণ্ঠে শতাব্দী সেরা একটি প্রেমের গান গাইছে!
মনে হচ্ছে, এ দৃশ্য এ গ্রহের নয়, অন্য কোথাও এটা অভিনীত হচ্ছে।
গান গাইতে গাইতেই পলিন ব্যাগ থেকে লিপস্টিক নিয়ে ঠোঁটে বুলাতে লাগল। আমি হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলাম, এই রাতেও লিপস্টিক! বোঝা যাবে?”
“যারা বুঝে তারা ঠিকই বুঝে, কীর্তন গাওয়া গেরুয়া সন্ন্যাসীই শুধু বুঝে না।”
“এ লিপস্টিক নিয়ে কিছু কথা ছিল পলিন, বলব?”
“এটা নিয়ে কী কথা?” অবাক কণ্ঠে ও জিজ্ঞেস করল।
“তোমার মনে আছে প্রথম যেদিন তুমি কুতুবপালং ক্যাম্পে গেলে তোমার হাত থেকে লিপস্টিক ছুটে গিয়েছিল। আমি তা লুফে নিয়েছিলাম?”
“কেন থাকবে না? ইট ওয়াজ আ গুড ক্যাচ।”
“তারপর আমি তা তোমার হাতে না দিয়ে কয়েকবার উপরে ছুড়ে আবার লুফে নিয়েছিলাম?”
“হ্যাঁ, কিন্তু হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন?”
‘ সেটা করার কারণ ছিল।”
“কী কারণ?”
“নরমালি ক্যাপ ছাড়া একটি লিপস্টিকের ওজন হয় সর্বোচ্চ চার দশমিক তিন গ্রাম। কিন্তু তোমারটা প্রথম হাতে নিয়েই মনে হলো এর ওজন বেশি। কমপক্ষে আট গ্রাম। কিন্তু তাতো হওয়ার কথা না। দুনিয়ার কোনো কোম্পানিই এত বেশি ওজনের লিপস্টিক বানায় না। তাই তা তোমাকে না দিয়ে আরো তিনবার উপরে ছুড়ে ট্রাই করলাম। প্রতিবারই কনফার্ম হলাম সেটার ওজন নরমাল লিপস্টিকের চেয়ে বেশি। বাট হোয়াই?
উত্তরটা আমিই দেই পলিন, কারণ তোমার লিপস্টিকের কনটেইনারে রঙ ছাড়া আরো কিছু আছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা শান্তিতে নেই। অনেকগুলো দেশী বিদেশী চক্র এটা নিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। আমরা পাল্টা মাথা খাটাচ্ছি তা ঠেকানোর। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তোমার ঠোঁট রাঙানোর ওই বস্তুটি আমার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সেজন্যই সেদিন আমি জ্বরের ভান করে তোমার সাথে না গিয়ে এখানে রয়ে গিয়েছিলাম। আই আম সরি, পলিন, তুমি চলে যাওয়ার পর আমি ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহার করে তোমার রুমে ঢুকেছি। তারপর তোমার কসমেটিক বাক্সের প্রতিটা লিপস্টিক পরীক্ষা করেছি। মোট এগারোটি। আরেকটি পরীক্ষা করতে পারিনি কারণ সেটা তোমার সাথে ছিলো। আমি সেগুলোতে কী পেয়েছি জানতে চাও?”
“রঙ ছাড়া আর কিছু পাওয়ার কথা না । তবে তুমি যে গোপনে মেয়েদের রুমে ঢুকার মতো পারভার্ট তা আগে বুঝিনি।” তার কণ্ঠে শ্লেষ।
আমি তা এড়িয়ে গিয়ে বললাম, এগারোটি লিপস্টিকে এগারোটি ট্রপেল ক্যামেরা। সত্তর দশকে আমেরিকানরা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে স্পাইরা ব্যবহার করার জন্য আধা ইঞ্চির মতো ছোটো সাইজের এ ক্যামেরা বানিয়েছিল। এ ছোট্ট জায়গার মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছিলো লেন্স, ফিল্ম এবং শাটার। মাত্র এগারো ইঞ্চি দূর থেকে এ ক্যামেরা অটোমেটিকভাবে একশোটি পর্যন্ত ছবি তুলিতে পারত। এর স্টান্ডার্ড ‘অপারেশন মেথড’ ছিল ছেলেরা তাদের ফাউন্টেইন কলম আর মেয়েরা তাদের লিপস্টিক কনটেইনারে লুকিয়ে রাখবে। রেগুলার সাইজের তিন ইঞ্চি লম্বা লিপস্টিকের মধ্যে এটি লুকিয়ে রাখা কোনো ব্যাপার না। ছবি তুলতে হলে কলম বা লিপস্টিকটি এগারো ইঞ্চি দূর থেকে তাক করলেই হলো। সি আই এর বিখ্যাত রাশিয়ান এজেন্ট ‘তোলকাচেভ’ এ ক্যামেরা ব্যবহার করেই নিজের দেশের সব সামরিক সিক্রেট আমেরিকানদের কাছে পাচার করেছিলেন। এজন্যই তাঁকে বলা হয় ‘বিলিয়ন ডলার স্পাই’। তোমার ক্যামেরাগুলো অবশ্য তোলকাচেভের চাইতে অনেক অ্যাডভানসড। অনেক বেশি অ্যাফিশিয়েন্ট। এসব ক্যামেরার ফিল্মে আমি কী পেয়েছি তুমি শুনতে চাও?”
পলিন কোনো কথা বলছে না। একমনে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে অসীম শূন্যতা।
আমি প্রায় চিৎকার করে বললাম, কেন? পলিন, কেন?
পলিন চুপ করে আছে। তার চোখ নিচের দিকে, যেন পায়ের নখ দেখছে।

#আসুন মায়া ছড়াই


এ জাতীয় আরো খবর...