শিরোনামঃ
বেসরকারি খাতে ঋণের খরা: কেবল পদক্ষেপে নয়, প্রয়োজন আস্থার সংকট দূরীকরণ ব্যথামুক্ত জীবন ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি এ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ কোটালীপাড়ার প্রবীণ শামসুল হকের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বহুমুখী সহযোগিতা বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে: শিক্ষামন্ত্রী বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-চীনের আলোচনা অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের সমঝোতা স্মারক সই মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

বাই দ্য রিভারস অব ব্যাবিলন – ৯

বাদল সৈয়দ / ১১ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

আমার গলা বেয়ে উঠে আসছে তীব্র হতাশা, “আমি তোমার সব মাইক্রোফিল্ম দেখেছি। আমার কাছে ওগুলো পড়ার জন্য রিডার আছে। রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে তোমার একাকী মিটিংয়ে তাদের দেওয়া প্ল্যান এবং ম্যাপও আমার কাছে আছে।” বলতে বলতে আমি তাঁর দিকে ঝুঁকে তীব্র কণ্ঠে বললাম, “পলিন, আমার এ ছোট্ট দেশের আর্থিক সঙ্গতি নেই, তারপরও পৃথিবীর সবচে বড়ো শরণার্থী দলকে আমরা পরম মায়ায় আশ্রয় দিয়েছি। সেটা কি আমাদের অপরাধ? নয়তো কেন তোমরা তাদের দিয়ে আমার মাতৃভূমিকে খণ্ড খণ্ড করে আলাদা ‘আরাকান রাষ্ট্র’ করতে চাও? কেন?
তুমি কি জানো এ দেশটিকে মুক্ত করার জন্য ত্রিশ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। বাংলাদেশ হচ্ছে দুনিয়ার সবচে বড়ো কবর পলিন। তিন মিলিয়ন মানুষের কবর। তাহলে কেন তোমরা এ গণকবরকে নিয়ে লেগেছো? ‘বনি এম’ এর গাওয়া তোমার প্রিয় গানে বর্ণিত ‘ব্যাবিলন’ শহর যেমন পবিত্র, ঠিক তেমনি এই ”বাংলাদেশ’ আমাদের কাছে অতি পবিত্র। এই যে বঙ্গোপসাগর দেখছো, তা ব্যাবিলনের নদী কিংবা সমুদ্রের চাইতে কম পবিত্র নয়। অ্যান্ড নাউ উই আর সিটিং বাই অ্যানাদার রিভার অব ব্যাবিলন, পলিন। তাহলে কেন তোমরা রোহিঙ্গাদের আমাদের পেছনে লাগিয়ে দিচ্ছো? তাদের যে মায়া আমরা দেখিয়েছি, তার বিনিময়ে এটা কি আমাদের প্রাপ্য ছিল? বলো ছিল? তাহলে কেন, কেন?”
পলিন কোন কথা বলছে না। সমুদ্রের গর্জন ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।
অনেকক্ষণ পর সে মৃদু কণ্ঠে বলল, “আসলে তুমি কে সৈয়দ?”
“উই আর ইন দা দ্য সেইম বোট পলিন। এসপিওনাজ। ”
“ও বুঝেছি, ড্যানিয়েল ক্রেইগ। জেমস বন্ড, জিরো জিরো সেভেন। তা তোমাদের দেশে স্পাইং এর শাস্তি কী? ফায়ারিং স্কোয়াড না ফাঁসি।”
তার কণ্ঠে ভেজা বেদনা।
“সে সিদ্ধান্ত আদালতের। তবে তুমি অভিনেত্রী হিসেবে খুব ভালো। রোহিঙ্গাদের জন্য বেদনার ছাপটা আসলেই সত্যি মনে হচ্ছিলো। হয়তো সুযোগ পেলে আবার পর্দা ফাটিয়ে হলিউডে ফেরত আসতে পারতে।”
“এসপিওনাজে ‘বেদনা’ নিষিদ্ধ নয়, সৈয়দ। তুমি ভালো করেই জানো এজেন্টরা রিমোট কন্ট্রোলে চলে এবং সে রিমোট থাকে তার হ্যান্ডলারের হাতে। কিন্তু সেটি সব নিয়ন্ত্রণ করলেও বুকের চাপা কষ্টকে নিয়ন্ত্রণ কর‍তে পারে না।”
“সমস্যা হচ্ছে, সে বেদনা আমাদের প্রায় একশো ষাট মিলিয়ন মানুষের বিপক্ষে গেছে। দে ডোন্ট ডিজার্ভ ইট, পলিন।”
আবার চুপচাপ। সমুদ্র মাঝে মাঝে জলের গন্ধ নিয়ে আছড়ে পড়ছে। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় হ্যারিকেনের আলো দপ করে উঠছে, তাতে ঝলসে উঠছে পলিনের হীরের আংটি।
হঠাৎ সে হাতটি এগিয়ে এলো আমার ঠোঁটের দিকে, সেখানে আঙুল বুলানোর ভঙ্গিতে, তারপর তা এক ঝটকায় নিজের দিকে টেনে নিলো, প্রায় আর্তস্বরে বললো, নো আই কান্ট ডু দ্যাট, নোওও– বলতে বলতে ঝট করে কিছু বুঝে উঠার আগেই অনামিকায় পরা হীরের আংটি নিজের ঠোঁটে নিয়ে তা চুষতে লাগলো।
মাত্র কয়েক সেকেন্ড।
তারপরই পলিন নামের মেয়েটি চেয়ার থেকে ধড়াম করে মাটিতে পড়ে গেল। তার গাল বেয়ে ফেনা বেরুচ্ছে।
সায়ানাইড।
ধরা পড়ার পর স্পাইদের আত্মহত্যার অতি প্রাচীন পদ্ধতি।
আমি চমকে উঠে লুটিয়ে পড়া মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইলাম। যে ব্যাপারটা প্রথম মাথায় ধাক্কা দিলো তাহলো, মেয়েটি শেষ মুহূর্তে আমার ঠোঁট থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে আমাকে এক ইঞ্চির জন্য মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে গেছে। আমাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত কেন সে বদলালো সে প্রশ্ন মগজে নিয়ে আমি স্তম্ভিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছি। তার চোখগুলো বিস্ফারিত। যেন অবাক চোখে উম্মত্ত যৌবনে ফেটে পড়া চাঁদ দেখছে। বাতাসে ঝাপটা মারছে তার পারফিউমের বুনো সুবাস।
আমি হাঁটু গেঁড়ে বসে ওর চোখের পাতা বুজে দিলাম।
তারপর বাংলোর দিকে ফিরতি পথ ধরলাম। দ্রুত হেড অফিসকে সব জানাতে হবে। এরপরের কাজ তাঁদের।
কিছুদূর এসে আবার পেছন ফিরে তাকালাম।
সমুদ্রের ব্যাকগ্রাউন্ডে শুয়ে আছে পলিন।
“অ্যা লোনলি উইম্যান অন দ্য বিচ।”

#আসুন মায়া ছড়াই


এ জাতীয় আরো খবর...