মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় বসছে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো, থাকছে ৪৩ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, সেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তুলে ধরতে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬। ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সহযোগিতায় রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম)।

আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এ বছর অ্যামচ্যাম প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে তিন দশকের অগ্রযাত্রার প্রতিফলন ঘটবে এবারের আয়োজনে। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতের ৩৬টি প্রতিষ্ঠান এবং সাতটি স্টার্টআপসহ মোট ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য থাকবে ৬৩টি বুথ। প্রথমবারের মতো এবারের প্রদর্শনীতে খাতভিত্তিক পৃথক জোন রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও ডিজিটাল অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা, দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি), উৎপাদন ও লজিস্টিকস, শিক্ষা ও উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসাসহ অন্যান্য খাত। এ ছাড়া নতুন উদ্যোগ ও উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরতে থাকছে বিশেষ স্টার্টআপ জোন।

দর্শনার্থীদের জন্য এবার যুক্ত হচ্ছে কার্নিভাল জোন ও হেরিটেজ কর্নার। কার্নিভাল জোনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে, হেরিটেজ কর্নারে ইউএস ট্রেড শোর দীর্ঘ পথচলা, বিবর্তন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে এর অবদান তুলে ধরা হবে।

দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে অনলাই ভিজিজটর পাস

এবারের নতুন সংযোজন তিন দিন মেয়াদি অনলাইন ভিজিটর পাস। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি পাস সংগ্রহ করে ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত পুরো প্রদর্শনীতে প্রবেশ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। এতে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার। এতে নীতিনির্ধারক, বিভিন্ন শিল্প খাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং উদীয়মান সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। সেমিনারের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, আইসিটি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, নারী নেতৃত্ব, সিলেক্ট ইউএসএ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলও এবারের ট্রেড শোতে অংশ নেবে। বাংলাদেশ সফরকালে তাঁরা বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই, স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করবেন। তাঁদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে। ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবারের ইউএস ট্রেড শো।

প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সরঞ্জাম, ভারী যন্ত্রপাতি, জ্বালানি, এলএনজি, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সেবা, সফটওয়্যার, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা, পেমেন্ট সলিউশন, ভোগ্যপণ্য, খাদ্যপণ্য, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যাসামগ্রী, শিল্প সেলাই ও এমব্রয়ডারি সুতা, রং, লজিস্টিকস এবং পরিবহনসেবাসহ বিভিন্ন ধরনের মার্কিন পণ্য ও সেবা প্রদর্শিত হবে।

অ্যামচ্যাম জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তির এ আয়োজনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে এ প্রদর্শনী ভূমিকা রাখবে।


এ জাতীয় আরো খবর...