মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

অক্টোবরে নিরাপদ খাদ্য আইনে সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় গত অক্টোবর মাসে সারাদেশে ৩৪টি অভিযান পরিচালনা করে সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

এ সময়ে ২৮টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ১ হাজার ১২৭টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের অভিযানে খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ না থাকা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ, পোড়াতেল ও অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার এবং খাদ্যপণ্যে লেবেল না থাকার মতো অনিয়ম উঠে এসেছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, অক্টোবর মাসে ঢাকা মহানগর এলাকায় ১৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১১টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ না থাকা, নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অসংগতি পাওয়া যায়।

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় আরও ১৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে রান্নাঘরে তেলাপোকার বিচরণ, পোড়াতেল ও অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, অনুমোদনহীন পণ্য ব্যবহার এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময়ে ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবেশন ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। গত মাসে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১ হাজার ১২৭টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয়। এ কার্যক্রমে অনিয়ম শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, রপ্তানিযোগ্য চারটি পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সারাদেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এটি বহুমুখী উদ্যোগের সম্মিলিত ফল। সংশ্লিষ্ট সবাই এগিয়ে এলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...