সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

নাক ডাকা কেবল বিরক্তির কারণ নয়, হতে পারে বড় রোগের লক্ষণ: জেনে নিন প্রতিকার

লাইফস্টাইল ডেস্ক / ৫৭ বার
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নাক ডাকা কেবল ক্লান্তির কারণে হয় না; এর পেছনে থাকতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেকে এটিকে সাধারণ বিষয় মনে করে এড়িয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি ঘুমের মান, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কেন হয় নাক ডাকা?

ঘুমের সময় গলা এবং নাকের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বাতাস আংশিক বাধার মুখে পড়লে আশপাশের টিস্যুতে কম্পন সৃষ্টি হয়, যা নাক ডাকার শব্দ তৈরি করে। নাক বন্ধ হওয়া, টনসিল ফুলে যাওয়া, জিহ্বা আলগা হয়ে যাওয়া বা ঘাড়ের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ শ্বাসনালীকে সংকুচিত করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (Obstructive Sleep Apnea) নামক সমস্যার কারণে ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পুনরায় নাক ডাকার ঘটনা ঘটে। এর ফলে রক্তে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, যা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

নাক ডাকার সমস্যা নিয়ন্ত্রণের ৫ উপায়

১. ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ: ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসা, হাঁপানি বা শ্বাস আটকে যাওয়া নাক ডাকার গুরুতর লক্ষণ। এছাড়া সকালে মাথাব্যথা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা কমানোর অন্যতম উপায়। ঘাড় ও গলার কাছে অতিরিক্ত চর্বি শ্বাসনালীতে চাপ সৃষ্টি করে। সামান্য ওজন কমালেও নাক ডাকার তীব্রতা অনেকটা কমে আসতে পারে।

৩. ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন: চিৎ হয়ে ঘুমালে জিহ্বা ও গলার নরম টিস্যু পেছনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা শ্বাসনালীকে সংকুচিত করে। তাই চিৎ হয়ে না শুয়ে পাশ ফিরে শোয়ার অভ্যাস করলে শ্বাসনালী পরিষ্কার থাকে এবং নাক ডাকা কমে।

৪. ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গলার পেশীর নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাব বা অনিয়মিত ঘুমের কারণে গলার পেশী অতিরিক্ত শিথিল হয়ে যায়, যা নাক ডাকার প্রবণতা বাড়ায়।

৫. নাক পরিষ্কার রাখা: অ্যালার্জি বা সর্দির কারণে নাক বন্ধ থাকলে মানুষ মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়, যা নাক ডাকার অন্যতম কারণ। তাই সাইনাস বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং ঘুমানোর আগে নাক পরিষ্কার রাখা জরুরি।


এ জাতীয় আরো খবর...