সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

দাঁত মাজতে গিয়ে অজান্তেই করছেন বড় ক্ষতি! জেনে নিন ৭টি সাধারণ ভুল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮২ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দাঁত ভালো রাখতে আমরা নিয়ম করে ব্রাশ করি। কিন্তু জানেন কি, দাঁত পরিষ্কার করতে গিয়েই অনেকে উল্টো নিজের ক্ষতি করে ফেলছেন? শুনতে অবাক লাগলেও বিষয়টি সত্যি। আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসের ছোটখাটো কিছু ভুল দাঁতের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে। এই ক্ষতিগুলো হঠাৎ চোখে পড়ে না, বরং নীরবে বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁতের সুরক্ষায় যে ৭টি ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. গায়ের জোরে ব্রাশ করা

অনেকের ধারণা, জোরে ঘষলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল। অতিরিক্ত চাপে দাঁতের ওপরের শক্ত সুরক্ষা স্তর বা ‘এনামেল’ ক্ষয় হয়ে যায়। এনামেল নষ্ট হলে দাঁত ঠান্ডা বা গরমে সংবেদনশীল (সেনসিটিভ) হয়ে পড়ে। এডিএ (ADA)-এর মতে, এভাবে ব্রাশ করলে কয়েক মাসের মধ্যেই দাঁতের বারোটা বাজতে পারে।

২. খাওয়ার পরপরই ব্রাশ করা

দাঁত মাজা জরুরি, তবে সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে টক বা অ্যাসিডজাতীয় খাবার খাওয়ার পরপরই দাঁত মাজা ঠিক নয়। এতে এনামেল দুর্বল হয়ে যায়। তাই খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে তবেই ব্রাশ করা নিরাপদ।

৩. ফ্লস ব্যবহার না করা

শুধু ব্রাশ দিয়ে দাঁতের সব অংশ, বিশেষ করে দুই দাঁতের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। সেখানে জমে থাকা খাদ্যকণা ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার অপরিহার্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, ফ্লস ব্যবহার না করলে দাঁতের ক্ষয়, ক্যাভিটি এবং মাড়ির রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

৪. ঘরোয়া টোটকায় দাঁত সাদা করার চেষ্টা

লেবু, বেকিং সোডা বা চারকোল দিয়ে দাঁত সাদা করার যেসব পদ্ধতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। এগুলো সাময়িকভাবে দাঁত সাদা দেখালেও এনামেলের ক্ষতি করে এবং সংবেদনশীলতা বাড়ায়। দাঁত সাদা করতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. পানি পানে অনীহা

মুখের লালা দাঁতের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মুখে লালা উৎপাদন কমে যায়, ফলে দাঁতের ওপর অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব বাড়ে। এতে দাঁত দ্রুত ক্ষয় হয় এবং মাড়ির সমস্যা দেখা দেয়।

৬. দীর্ঘ দিন একই ব্রাশ ব্যবহার

অনেকেই মাসের পর মাস একই টুথব্রাশ ব্যবহার করেন। ব্রাশের শলাকা বা ব্রিসলগুলো বেঁকে বা নষ্ট হয়ে গেলে তা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার হয় না, উল্টো মাড়ি জখম হতে পারে। তাই প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করা জরুরি।

৭. অতিরিক্ত হোয়াইটিনিং পণ্যের ব্যবহার

বাজারে পাওয়া বিভিন্ন হোয়াইটিনিং পেস্ট বা টুলস অতিরিক্ত ব্যবহার করলে দাঁতের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে দাঁত দুর্বল ও সেনসিটিভ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

শেষ কথা

দাঁতের যত্ন মানে শুধু ব্রাশ করা নয়, বরং সঠিক নিয়ম মেনে চলা। প্রতিদিনের এই ছোটখাটো ভুলগুলো শুধরে নিলেই আপনার দাঁত থাকবে মজবুত, সুস্থ এবং হাসি হবে প্রাণবন্ত।


এ জাতীয় আরো খবর...