মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন চূড়ান্ত নাটকীয় মোড় নিয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে শক্তিশালী ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। হামলার পর থেকে নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে চরম রহস্য তৈরি হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ জানিয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে তারা ‘জায়নিস্ট শাসনের’ অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তরকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই অভিযানে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম।
হামলার সময় নেতানিয়াহু তার কার্যালয়ে ছিলেন কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে:
হামলার ঠিক পরেই নেতানিয়াহু তার পূর্বনির্ধারিত বেইত শেমেশ সফর বাতিল করেন।
তার সর্বশেষ ভিডিও বার্তাটি প্রায় ৫ ঘণ্টা আগে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর থেকে তার কোনো নতুন ছবি, ভিডিও বা সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর পরিণতি এখন ‘অনিশ্চয়তার মেঘে আচ্ছন্ন’।
সংবাদ সংস্থা এএফপি-র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সোমবার জেরুজালেমের আকাশে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তারা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লায়েন ইরানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে ‘বেপরোয়া ও নির্বিচার হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার পর তিনি অঞ্চলজুড়ে স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।