চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু ইরা আর নেই। সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা যমে-মানুষে লড়াই করে হার মানল দ্বিতীয় শ্রেণির এই ছাত্রী।
গত রবিবার দুপুরে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের গভীর জঙ্গলে কাজ করছিলেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। এসময় এক এক্সকেভেটর চালক দেখতে পান, একটি শিশু রক্তাক্ত অবস্থায় গলাকাটা নিয়ে জঙ্গল থেকে হেটে রাস্তার দিকে আসছে। বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য দেখে শ্রমিকরা দ্রুত এগিয়ে যান এবং নিজেদের ট্রাক ব্যবহার করে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার সময় ইরা যন্ত্রণাকাতর কণ্ঠে তার পরিচয় নিশ্চিত করেছিল। সে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার মনিরুল ইসলামের কন্যা এবং মসজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ইশারায় ইরা জানিয়েছিল, নিজ এলাকার পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে ফুসলিয়ে ইকোপার্কে নিয়ে এসেছিল এবং সেখানেই তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই ব্যক্তিকে দেখলে সে চিনতে পারবে বলেও জানিয়েছিল ইরা।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মুহুয়া জানান, শিশুটির শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাতভর চেষ্টা চললেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে নিস্পাপ শিশুটি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে কুমিরা এলাকা থেকে তুলে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ইরা মৃত্যুর আগে ঘাতক সম্পর্কে যে ইঙ্গিত দিয়ে গেছে, তার সূত্র ধরে অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।