মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচারের পথ উন্মুক্ত করল বর্তমান সরকার। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে আইপিএলের ১৯তম আসর। এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো সম্প্রচারে এখন থেকে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে নিশ্চিত করেছেন বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারের জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেয়নি। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, খেলাধুলা নিয়ে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের রাজনীতি করতে চায় না। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করা হবে। দেশের কোনো চ্যানেল যদি আইপিএল সম্প্রচারের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন নিয়ে আসে, তবে তা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, আগের সরকারের সেই নির্দেশনার এখন আর কোনো কার্যকারিতা নেই। বর্তমান সরকার যদি সম্প্রচার বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশ দিত, কেবল তখনই তা বন্ধ রাখা হতো। যেহেতু বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি, তাই জোর করে কিছু বন্ধ রাখা হবে না এবং আগের সেই স্থগিতাদেশও এখন আর বহাল থাকছে না।
দেশীয় কোনো চ্যানেল আইপিএলের সম্প্রচারস্বত্ব না কিনলেও ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বিদেশি চ্যানেল, বিশেষ করে ভারতীয় স্পোর্টস চ্যানেল ‘স্টার স্পোর্টস’-এর মাধ্যমে দর্শকরা নির্বিঘ্নে ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন। বিদেশি চ্যানেলে খেলা দেখানোর ক্ষেত্রেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, উগ্রবাদীদের দাবির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) স্কোয়াড থেকে টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এমনকি ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রেশ ধরেই পরবর্তীতে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল বাংলাদেশ।