দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে কেবল মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াঙ্গনকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত রাখতে চান এবং ইতিমধ্যে সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নবনির্বাচিত পর্ষদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের ভাবনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “শুধু খেলা নয়, খেলোয়াড়রা যেন এটিকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে— প্রধানমন্ত্রীর মাথায় সেই ভাবনাও রয়েছে। শুধু সাময়িক ভাতা বা সম্মাননা দেওয়াই বড় কথা নয়, বরং ভবিষ্যতে খেলোয়াড়রা যেন খেলাকেই নিজেদের স্থায়ী পেশা হিসেবে নিতে পারে, সেই লক্ষ্যে তিনি কাজ শুরু করেছেন।”
দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা সবসময় মনে করেছি, খেলাধুলায় কোনো ধরনের রাজনীতি থাকা উচিত নয়। রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে কোনো মেধাবী খেলোয়াড় যখন দল বা জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন, সেটি সবচেয়ে বেশি কষ্টের বিষয়। এই হতাশাজনক অবস্থা থেকে আমাদের অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে।”
বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রীর অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ ক্রীড়ামন্ত্রী, যিনি নিজেও একসময় দেশের প্রতিনিধিত্ব করা একজন দক্ষ ও বরেণ্য ফুটবলার ছিলেন— তাঁকে অনুরোধ করব, তিনি যেন এই বিষয়টির দিকে বিশেষ নজর রাখেন। আমরা যদি ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে পারি, তাহলে অবশ্যই সফল হব।”
বক্তব্যের শেষে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ঠিক এমন একটি মেধাভিত্তিক ও রাজনীতিমুক্ত ক্রীড়াঙ্গনেরই প্রত্যাশা করেন এবং সেই লক্ষ্যেই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।