আইনি বাধ্যবাধকতা এবং অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার ফলে দেশে করদাতার সংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মোট ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা কর শনাক্তকরণ নম্বর ১ কোটি ২৮ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) এবং নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) অংশ নেয়।
এনবিআর চেয়ারম্যানের দেওয়া বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে গুছিয়ে দেওয়া হলো:
টিআইএন বৃদ্ধি: ২০১৪ সালে দেশে টিআইএন ধারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪ লাখের মতো। বিভিন্ন সেবায় টিআইএন বাধ্যতামূলক করার কারণে গত এক দশকে তা বেড়ে ১ কোটি ২৮ লাখ ছাড়িয়েছে।
রিটার্ন দাখিল: চলতি বছর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করায় দাখিলে গতি এসেছে। এ বছর মোট ৪২ লাখ ৫০ হাজার আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী বছর থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন থাকবে না। এর বদলে বছরজুড়ে রিটার্ন দাখিলের একটি নতুন ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে:
প্রথম প্রান্তিক (১ম কোয়ার্টার): এই সময়ে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় প্রান্তিক (২য় কোয়ার্টার): এই সময়ে দাখিলকারীদের নিয়মিত বা সাধারণ করদাতা হিসেবে গণ্য করা হবে।
তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিক: বছরের শেষার্ধে যারা রিটার্ন দেবেন, তাদের জন্য বাড়তি কর বা জরিমানার বিধান রাখা হবে।
বিআইএন বৃদ্ধি: গত দেড় বছরে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বা ভ্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বিআইএন ছিল ৫ লাখের কিছু বেশি, যা এনবিআরের অভিযানের ফলে এখন ৮ লাখ ছাড়িয়েছে।
ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি: এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, দেশে কমপক্ষে ৮০ লাখ বিআইএন থাকার কথা। ব্যবসায়ী নেতাদের তথ্যমতে, দেশের প্রায় ৬০ লাখ দোকানদার ২ লাখ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন, কিন্তু ভ্যাট আদায়ে তার প্রতিফলন নেই। তাই আগামীতে ভ্যাটের জাল (VAT Net) আরও বড় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে আগামী করবর্ষে ‘সম্পদ কর’ ফিরিয়ে আনার কথা চিন্তা করছে এনবিআর। যাদের সক্ষমতা ও আয় বেশি, তাদের থেকে বেশি কর আদায় করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ব্যয় করার নীতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আব্দুর রহমান খান।