মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

মার্কিন বাজারে চীনের বিশাল ধস: পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এল বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক / ১৮ বার
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির সমীকরণে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষস্থানে থাকা চীনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। মার্কিন প্রশাসনের কঠোর শুল্ক নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে চীনের রপ্তানিতে নজিরবিহীন ধস নামায় এই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অটেক্সার পরিসংখ্যান ও শীর্ষ দেশসমূহ

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। দেশটি এ সময়ে ২.৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৮৮ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ১.৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি ৮.৫৩ শতাংশ কমেছে, তবুও চীনের বিশাল পতনের কারণে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস।

চীনের ঐতিহাসিক পতন

এই তালিকার সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে চীনের নজিরবিহীন বিপর্যয়। গত বছরের তুলনায় চীনের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৭.৬৫ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১.১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পাঠাতে সক্ষম হয়েছে, যা দেশটিকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চীনের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক এবং উইঘুর অঞ্চলে তৈরি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববাজারে মন্দার প্রভাব

অটেক্সার প্রতিবেদন বলছে, কেবল বাংলাদেশ বা চীন নয়, সার্বিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। আলোচ্য দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১১.৫৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.৪৭ শতাংশ কম। বিশ্বব্যাপী চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন গ্রাহকদের কেনাকাটার ধরনে পরিবর্তনের ফলেই এই সামগ্রিক মন্দা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ

চীনের বাজার হিস্যা কমে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রপ্তানি কমার হার (৮.৫৩%) দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মার্কিন ক্রেতারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকেই প্রাধান্য দেবে। তবে ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে লিড-টাইম কমানো এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সবুজ কারখানার (Green Factory) মাধ্যমে মার্কিন ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে চলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বছরের শেষ দিকে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের রপ্তানি গ্রাফ আবারও উর্ধ্বমুখী হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...