বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন/তেহরান / ৫ বার
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

আক্ষরিক অর্থেই ‘খাদের কিনারে’ দাঁড়িয়ে থাকা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “আস্ত সভ্যতা বিলীন” করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরেই এলো কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অবশেষে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

শাহবাজ শরীফের ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই সমঝোতাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের বড় ধরণের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন। গত কয়েক দিন ধরে ইসলামাবাদ, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে তিনি যে ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ বা দৌড়ঝাঁপ চালিয়েছেন, তারই ফলশ্রুতিতে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি। শর্ত অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিন উভয় পক্ষ কোনো ধরণের সরাসরি সামরিক উস্কানি বা বড় আকারের হামলা থেকে বিরত থাকবে।

ট্রাম্পের অবস্থান ও হোয়াইট হাউসের সুর বদল

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ইরানকে “পাথর যুগে” পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা নমনীয় সুর ধরেছেন। হোয়াইট হাউস সূত্র বলছে, ট্রাম্পের কঠোর আল্টিমেটাম ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করেছে। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, এই দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে তাদের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো নিয়ে দেওয়া মার্কিন শর্তগুলোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তেহরানের প্রতিক্রিয়া

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এই যুদ্ধবিরতিকে মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেল বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং নিজস্ব অবকাঠামো রক্ষার তাগিদ থেকেই এই সমঝোতা। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানলে এই বিরতি যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।

বিশ্ববাজারের প্রতিক্রিয়া

এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই দুই সপ্তাহ পর কী হবে? এটি কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ নাকি ঝড়ের আগের নীরবতা, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।


এ জাতীয় আরো খবর...