দীর্ঘ কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে রাখা নিজেদের অবশিষ্ট সবটুকু স্বর্ণের রিজার্ভ ফিরিয়ে নিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব ফ্রান্স’-এর সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কে গচ্ছিত ১২৯ টন স্বর্ণ এখন থেকে প্যারিসের নিজস্ব ভল্টে সংরক্ষিত থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১২.৮ বিলিয়ন ইউরো।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই বিশাল স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে ফ্রান্স এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম স্বর্ণ মজুতকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল। বর্তমানে দেশটির মোট ২ হাজার ৪৩৭ টন স্বর্ণের পুরো মজুতই এখন প্যারিসে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে।
মজার বিষয় হলো, ফ্রান্স এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ জাহাজ বা বিমানে করে আটলান্টিক মহাসাগর পার করে আনেনি। কৌশলগত ও নিরাপত্তা জনিত কারণে ব্যাংকটি একটি অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেছে:
প্রথমে তারা নিউ ইয়র্কে গচ্ছিত ১২৯ টন স্বর্ণ বিক্রি করে দেয়।
পরবর্তীতে সমপরিমাণ স্বর্ণ ইউরোপের বাজার থেকে পুনরায় সংগ্রহ করে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরনো স্বর্ণ গলিয়ে নতুন করে প্রস্তুত করার চেয়ে বাজার থেকে নতুন স্বর্ণ কেনা অনেক বেশি সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী।
ফরাসি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফ্রাঁসোয়া ভিলরয় ডি গালো জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই। মূলত ইউরোপীয় বাজারে লেনদেন হওয়া উচ্চমানের স্বর্ণ সহজলভ্য করাই তাদের লক্ষ্য।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত নন। তাদের মতে: ১. সার্বভৌমত্ব রক্ষা: ইউরো-আটলান্টিক মিত্রদের মধ্যে সাম্প্রতিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানো। ২. সম্পদের নিরাপত্তা: যুদ্ধের এই ডামাডোলে নিজেদের সম্পদ নিজেদের সীমানার ভেতরে রাখাটাই নিরাপদ মনে করছে প্যারিস।
ফ্রান্সের এই পদক্ষেপের পর জার্মানি ও ইতালির মতো দেশগুলোর মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যেহেতু এই দেশগুলোরও স্বর্ণের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভল্টে জমা আছে, তাই সম্পদের নিরাপত্তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারাও এখন ফ্রান্সের পথ অনুসরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।