শিরোনামঃ
মাঠে অরক্ষিত কৃষক: বজ্রপাত রোধের কোটি টাকার প্রকল্পগুলো গেল কোথায়? চল্লিশ পেরোলেই খাদ্যাভ্যাসে চাই বাড়তি নজর: সুস্থ থাকতে পুরুষদের যা খাওয়া জরুরি বাবার হাজার কোটি টাকায় মোহ নেই, লন্ডনে সাধারণ চাকরি করেন অক্ষয়-পুত্র প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমানকে বাফুফেতে আমন্ত্রণ জানালেন অধিনায়ক আফিদা হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাল থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু আ. লীগকেও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত: রাশেদ খান জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী সংসদে সরকারি দলের এমপিদের অঙ্গভঙ্গি: তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জামায়াত আমিরের ‘সরকার জ্বালানি সংকট নিয়ে মিথ্যাচার করছে’: সংসদে রুমিন ফারহানা কিউবার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একজোট মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিল
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন

বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্বিগুণ, দেশে বাড়ানো হয়েছে ‘সামান্য’: জ্বালানিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হলেও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দেশে তেলের দাম ‘খুব সামান্য’ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সরকার ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ভর্তুকির চাপ

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যে দামে তেল পাওয়া যেত, এখন সেই দাম অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে আমাদের ওপর সরাসরি চাপ পড়ছে।”

এই পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের ব্যয় অন্তত দুই বিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে বলে তিনি জানান। ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, অতিরিক্ত এই ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করলেও সরকার এই বাড়তি খরচের পুরোটা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়নি। বরং এর একটি বড় অংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে নিজেই বহন করছে।

জনস্বার্থে ‘সীমিত’ সমন্বয়

বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানির দাম পুরোপুরি সমন্বয় করা হলে দেশে দাম আরও অনেক গুণ বেড়ে যেত বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা সেই পথে যাইনি। সীমিত আকারে দাম সমন্বয় করেছি, যাতে চাপটা সহনীয় থাকে।”

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের ভোগান্তি কমানোকেই এখন প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী ইঙ্গিত দেন যে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এই খাতে সরকারি ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে।

নতুন দাম ও জনজীবনে শঙ্কা

রোববার থেকেই সারা দেশে নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:

  • অকটেন: ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা (লিটারে বেড়েছে ২০ টাকা)

  • পেট্রোল: ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা (লিটারে বেড়েছে ১৯ টাকা)

  • কেরোসিন: ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা (লিটারে বেড়েছে ১৮ টাকা)

  • ডিজেল: ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা (লিটারে বেড়েছে ১৫ টাকা)

মন্ত্রী এই মূল্যবৃদ্ধিকে ‘সামান্য’ বললেও, বাস্তবে সব ধরনের জ্বালানির দাম এক লাফে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিবহন ও কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় গণপরিবহনের ভাড়া, কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজারে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


এ জাতীয় আরো খবর...