অতীতে ছাত্রলীগ করা নেতাকর্মীদের জন্য নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির (ন্যাশনাল সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম) দরজা খোলা রাখার ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, ছাত্রলীগকে যদি রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে বিশাল দল আওয়ামী লীগকেও আন্ডারগ্রাউন্ডে না পাঠিয়ে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে দুপুরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নিয়ে নিজেদের দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করেন।
এনসিপির সংবাদ সম্মেলন ও নাহিদ ইসলামের বক্তব্য
রোববার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “অতীতে কেউ ছাত্রদল করুক, ছাত্রশিবির করুক বা ছাত্রলীগ করুক—এটা আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। আজকে থেকে যখন কেউ এনসিপিতে আসবে, তখন তিনি এনসিপির সংগঠক ও নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করবেন; এনসিপির আদর্শকে ধারণ করেই কাজ করবেন।”
রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্ট ও ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ তত্ত্ব
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি তার পোস্টে লেখেন, “যেহেতু অতীতে ছাত্রলীগ করলেও বর্তমানে এনসিপি করা যাবে, তাহলে অতীতে আওয়ামী লীগ করলে তারা কেন ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ করতে পারবে না? আওয়ামী লীগ একটি বিশাল দল, এদের সবাইকে আন্ডারগ্রাউন্ডে না পাঠিয়ে দিয়ে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত।”
এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহকে কটাক্ষ
ফেসবুক পোস্টে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি আরও যুক্ত করেন, “আওয়ামী লীগের কেউ এনসিপিতে পুনর্বাসিত হোক, কেউ জামায়াতে, কেউ রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ হিসেবে। আশা করি, এটাতে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর কোনো আপত্তি থাকবে না। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে এই প্রস্তাব উত্থাপন করে কণ্ঠভোটে পাস করিয়ে আনবেন।”
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই এনসিপির এমন ঘোষণা এবং এর বিপরীতে রাশেদ খানের এই তির্যক মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।