শিরোনামঃ
অলিগলি পেরিয়ে মূল সড়কে রাজত্ব: অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রযানের কবলে বিপন্ন জননিরাপত্তা ও অর্থনীতি পাম্পে হাহাকার, অথচ উপচে পড়ছে ডিপো: দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অকটেন নিচ্ছে না সরকার মাঠে অরক্ষিত কৃষক: বজ্রপাত রোধের কোটি টাকার প্রকল্পগুলো গেল কোথায়? চল্লিশ পেরোলেই খাদ্যাভ্যাসে চাই বাড়তি নজর: সুস্থ থাকতে পুরুষদের যা খাওয়া জরুরি বাবার হাজার কোটি টাকায় মোহ নেই, লন্ডনে সাধারণ চাকরি করেন অক্ষয়-পুত্র প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমানকে বাফুফেতে আমন্ত্রণ জানালেন অধিনায়ক আফিদা হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাল থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু আ. লীগকেও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত: রাশেদ খান জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী সংসদে সরকারি দলের এমপিদের অঙ্গভঙ্গি: তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জামায়াত আমিরের
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

মাঠে অরক্ষিত কৃষক: বজ্রপাত রোধের কোটি টাকার প্রকল্পগুলো গেল কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখলে একসময় তৃষ্ণার্ত প্রকৃতি ও কৃষকের মনে যে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে যেত, আজ সেই মেঘই যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত হয়ে নেমে আসছে। কাঠফাটা তাপদাহের পর একপশলা বৃষ্টি যখন জনজীবনে স্বস্তি আনার কথা, ঠিক তখনই বৃষ্টির সঙ্গী হয়ে আসা ভয়ংকর বজ্রপাত কেড়ে নিচ্ছে একের পর এক তরতাজা প্রাণ। বিশেষ করে যারা দেশের মানুষের মুখের অন্ন জোগাতে খোলা মাঠে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন, সেই কৃষকরাই এখন প্রকৃতির এই ভয়াল রোষানলের সবচেয়ে বড় শিকার। গত শনিবারের (১৮ এপ্রিল) একটি মাত্র দিনের পরিসংখ্যান যেন এই মৃত্যুফাঁদের ভয়াবহতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ছয়টি জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন মানুষ, যাদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন কৃষক। এই মর্মান্তিক বাস্তবতা আবারও সামনে এনেছে বজ্রপাত নিরোধে সরকারি উদ্যোগগুলোর চরম ব্যর্থতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াল থাবার কথা।

এক দিনেই ১২ মৃত্যু: রক্তাক্ত শনিবারের চিত্র

গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) হাওর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেন আকাশ থেকে আগুন ঝরেছে। এদিন বজ্রপাতে সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়টি ঘটেছে সুনামগঞ্জ জেলায়। জেলার চারটি উপজেলায় কেবল হাওরে বোরো ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে পাঁচজন কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, ধর্মপাশা উপজেলার বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান, একই উপজেলার সরস্বতীপুর গ্রামের রহমত উল্লাহ (২৩), দিরাই উপজেলার কৃষক লিটন মিয়া এবং তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮)। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান জানান, এদিন আরও অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুরে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁওয়ে মমতাজ আলী খান (৫৮) নামের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়া (৩৫) ও সখিপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫) নামের দুই মৎস্যজীবী প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার মেষির হাওরে আলতু মিয়া (৬৫), কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে হেলাল মিয়া (৩৮) এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মমিনা হাওরে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামের কৃষকরা বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। প্রতিটি ঘটনাই ঘটেছে খোলা মাঠে বা হাওরে কাজ করার সময়, যা প্রমাণ করে এই পেশার মানুষগুলো কতটা অরক্ষিত।

১৫ বছরের পরিসংখ্যান: মৃত্যুর দীর্ঘ মিছিল

বজ্রপাতে মৃত্যুর এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে শুরু করে এ বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত গত ১৫ বছরে দেশে বজ্রপাতে মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩০০ মানুষ কেবল বজ্রপাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বজ্রপাতের তীব্রতা ও প্রাণহানির হার বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাসে সবচেয়ে বেশি থাকে। মে, জুন ও আগস্ট—এই তিন মাস হলো বজ্রপাতের ‘পিক সিজন’। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বজ্রপাতের সর্বোচ্চ ২৯.৬২ শতাংশ ঘটনা ঘটে মে মাসে। জুনে ঘটে ২৪.৬৮ শতাংশ এবং আগস্টে ২১.৪২ শতাংশ।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বজ্রপাত: কেন এটি এত প্রাণঘাতী?

বজ্রপাত আসলে মেঘ থেকে মাটিতে নেমে আসা এক বিপুল শক্তির বৈদ্যুতিক স্রোত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মেঘের মধ্যে জলকণা ও বরফকণার ঘর্ষণে বিপুল পরিমাণ স্থির বিদ্যুতের সৃষ্টি হয়। যখন এই বিদ্যুতের ঝলকানি বা বজ্রপাত ঘটে, তখন এর ভেতরে প্রায় ৩০ কোটি ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়! আমাদের বাসাবাড়িতে সাধারণত মাত্র ২২০ ভোল্ট বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, যা থেকেই এর ভয়াবহতা অনুমান করা যায়।

সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো এর তাপমাত্রা। একটি বজ্রপাতের সময় আশপাশের বাতাসের তাপমাত্রা মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ২৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা সূর্যের উপরিভাগের তাপমাত্রার চেয়েও প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এত বিপুল ভোল্টেজ ও তাপমাত্রার কোনো বৈদ্যুতিক স্রোত যখন সরাসরি কোনো মানুষের শরীরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তার বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

ভৌগোলিক ঝুঁকি: মৃত্যুফাঁদ হাওরাঞ্চল

বজ্রপাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হলো বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা—সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও সিলেট। আবহাওয়া অধিদপ্তরের গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিবছর হাওরাঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জানমাল বজ্রপাতের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বছরে বজ্রাঘাতে মোট হতাহতের ৫২.৪ শতাংশই ঘটে এই অঞ্চলে।

হাওর অঞ্চলে মৃত্যুর হার এত বেশি হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো সেখানকার ভৌগোলিক গঠন। হাওরে মাইলের পর মাইল খোলা প্রান্তর থাকে, যেখানে কোনো উঁচু গাছপালা বা স্থাপনা নেই। বোরো ধান কাটার মৌসুমে (এপ্রিল-মে) কৃষকরা এই বিস্তীর্ণ মাঠে কাজ করেন। যখন বজ্রপাত হয়, তখন বিদ্যুতের ধর্মই হলো সবচেয়ে কাছের ও উঁচু বস্তুর মাধ্যমে মাটিতে পরিবাহিত হওয়া। খোলা মাঠে মানুষ বা গবাদিপশুই তখন ভূখণ্ডের সবচেয়ে উঁচু বস্তুতে পরিণত হয়, ফলে বজ্রপাত সরাসরি তাদের ওপরই আঘাত হানে।

জরিপে দেখা গেছে, হাওরবাসীর ৩২ শতাংশ মানুষ সতর্কবার্তা পেলেও মাঠ থেকে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার মতো কোনো জায়গা খুঁজে পান না। মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে, সতর্কবার্তার পর তারা ১০ থেকে ৩০ মিনিট সময় পান নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য, যা বিস্তীর্ণ হাওরের বুক থেকে উঠে আসার জন্য যথেষ্ট নয়।

কেন দিন দিন বাড়ছে বজ্রপাতের তীব্রতা?

আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, দেশে বজ্রপাত বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ও জলবায়ু পরিবর্তন। নদী শুকিয়ে যাওয়া, জলাভূমি ভরাট, নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস এবং মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে দেশের গড় তাপমাত্রা আগের তুলনায় ১ থেকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

তাপমাত্রা বাড়ার কারণে জলাশয় থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা এই অতিরিক্ত আর্দ্র বায়ুর সঙ্গে যখন উত্তরে হিমালয় থেকে আসা শুষ্ক ও শীতল বায়ুর সংঘর্ষ ঘটে, তখনই তৈরি হয় ভয়ংকর ‘কিউমুলোনিম্বাস’ বা বজ্রমেঘ। এই সংঘর্ষের মাত্রা যত বাড়ছে, বজ্রপাতের ঘটনাও তত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড। একসময় গ্রামবাংলার মাঠের চারপাশে প্রচুর পরিমাণে তাল, সুপারি, রেইনট্রি ও বাবলা গাছ ছিল। এই উঁচু গাছগুলো প্রাকৃতিকভাবে ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ বা বজ্রনিরোধক হিসেবে কাজ করত। মেঘ থেকে নেমে আসা বিদ্যুৎ মানুষের গায়ে না পড়ে এসব উঁচু গাছে আঘাত করত এবং গাছ বেয়ে মাটিতে মিশে যেত। কিন্তু বর্তমানে অবাধে বড় গাছ কেটে ফেলার কারণে সেই প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ এখন আর নেই।

সরকারের উদ্যোগ ও ব্যর্থতার খতিয়ান

বজ্রপাতের এই ভয়াবহতা উপলব্ধি করে ২০১৬ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে দেশজুড়ে ৪০ লাখ তালগাছ লাগানোর একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, পরিকল্পনার গলদ ও দুর্নীতির কারণে এই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। তালগাছগুলো হাওর বা খোলা মাঠের বদলে লাগানো হয়েছিল মূলত রাস্তার দুই পাশে, যেখানে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। অযত্ন ও অবহেলায় এসব গাছের একটি বড় অংশই নষ্ট হয়ে গেছে।

পরবর্তীতে হাওর অঞ্চলে উঁচু খুঁটির মাধ্যমে ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ (বজ্রনিরোধক যন্ত্র) বসানোর আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের নিদারুণ অভাবে কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো এসব যন্ত্রের অনেকগুলোই এখন বিকল হয়ে পড়ে আছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টোর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের (এসএসটিএএফ) সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লার মতে, সরকারের পক্ষ থেকে বজ্রপাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির কার্যকর কোনো উদ্যোগই মাঠে নেই।

সতর্কবার্তা ও আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মালিক জানান, বর্তমানে প্রযুক্তির সাহায্যে অনেক উন্নতি হয়েছে। ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসের পাশাপাশি এখন ২ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে স্যাটেলাইট ও গ্লোবাল লাইটনিং ডিটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করে ‘নাউকাস্টিং’ (Nowcasting) প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার জন্য বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ হলো—এই বার্তা প্রান্তিক কৃষকের মোবাইল ফোন পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না বা পৌঁছালেও ফসল বাঁচানোর তাগিদে তারা তা অগ্রাহ্য করছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান আশ্বস্ত করে বলেছেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে মোবাইল অপারেটর ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছে এসএমএস-এর মাধ্যমে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি সারা দেশে আরও লাইটনিং অ্যারেস্টার বসানোর নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও, একে প্রাণঘাতী করে তোলার পেছনে আমাদের পরিবেশ ধ্বংসের দায় কোনোভাবেই এড়ানো যায় না। কৃষকরা আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। পেটের দায়ে এবং দেশের মানুষের খাদ্য জোগাড় করতে গিয়ে তারা আজ খোলা মাঠে প্রকৃতির নির্মম শিকার হচ্ছেন। কোটি টাকার প্রকল্প কেবল কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে, হাওর ও কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে দ্রুত ও কার্যকর বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য মাঠে নিরাপদ ছাউনি নির্মাণ এবং আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানোর একটি শতভাগ কার্যকর উপায় বের করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তা না হলে প্রতিবছর এই এপ্রিল-মে মাসে মেঘের গর্জনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতেই থাকবে।


এ জাতীয় আরো খবর...