বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

মধ্যাহ্নভোজ নাকি ভোটের হিসাব? মনজুর আলমের বাসায় তোপের মুখে হাসনাত আব্দুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে একদল বিক্ষুব্ধ যুবকের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বিক্ষুব্ধ যুবকরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে হাসনাতকে নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। তবে এই ঘটনা এবং আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন মনজুর আলম।

বাসার বাইরে বিক্ষোভ ও ‘আওয়ামী দোসর’ তত্ত্ব

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামের কাট্টলী এলাকায় মনজুর আলমের বাসায় যান হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয় কিছু যুবক তাকে ঘিরে ধরেন। দেশীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়:

  • যুবকরা হাসনাতকে ঘিরে ধরে প্রশ্ন করছেন, “আপনি একজন জুলাই যোদ্ধা হয়ে, সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলে, আজ কেন একজন আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় এসেছেন?”

  • হাসনাত আব্দুল্লাহ এ সময় হাত নেড়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

  • স্থানীয় সূত্র ও মহানগর যুবদলের সাবেক নেতাদের দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মূলত স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী।

কী কথা হলো দুই নেতার?

এই আকস্মিক সফরকে কেন্দ্র করে গুঞ্জন উঠেছে যে, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনজুর আলমকে এনসিপির (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি) প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে বিবিসি বাংলা ও অন্যান্য গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনজুর আলম এসব জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন।

  • মনজুর আলমের দাবি: তিনি জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামে একটি প্রোগ্রামে এসে তাকে ফোন দিলে তিনি কেবল দুপুরে খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বেলা ৩টার দিকে হাসনাত তার বাসায় আসেন এবং খাবার খেয়ে চলে যান। নির্বাচন বা রাজনৈতিক কোনো বিষয়েই কথা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

  • এনসিপি-এর বক্তব্য: মজার বিষয় হলো, এনসিপির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। দলটির দাবি, দুই নেতার মধ্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আরও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

‘আমি আওয়ামী লীগের দোসর কোথা থেকে হলাম?’

বিক্ষোভকারীদের ‘আওয়ামী দোসর’ অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মনজুর আলম। তিনি বলেন:

  • “আমার নামে তো কোনো মামলাও নেই। আমি তো বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র ছিলাম, আওয়ামী লীগে তো যোগ দিইনি। আওয়ামী লীগের কিছুই ছিলাম না আমি। তাহলে দোসর হলাম কীভাবে?”

  • তিনি আরও জানান, যারা বিক্ষোভ করেছে তারা মূলত আশপাশের এলাকার এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর তিনি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি অবসর নিয়েছেন এবং বর্তমানে কেবল সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেই যুক্ত আছেন।

নেপথ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ

মনজুর আলম ২০১০ সালে তার ‘রাজনৈতিক গুরু’ ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে বিএনপির সমর্থনে চসিক মেয়র নির্বাচিত হয়ে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছিলেন। এরপর তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হন। ২০১৫ সালে বিএনপি থেকে ফের নির্বাচন করলেও ভোটের দিন কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন।

তবে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, রাজনীতি ছাড়ার কথা বললেও মনজুর আলম ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন এবং ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। যদিও কোনো পদে না থাকায় আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি। স্থানীয় রাজনীতিতে এই ইতিহাসটির কারণেই তাকে ঘিরে ‘আওয়ামী দোসর’ তত্ত্ব এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।


এ জাতীয় আরো খবর...