দুই বাংলার জনপ্রিয় ও চিরসবুজ অভিনেত্রী জয়া আহসান। বয়স যেন তার কাছে নিছকই একটি সংখ্যা! তার চমৎকার শারীরিক গঠন এবং লাবণ্যময়ী রূপের রহস্য নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। অনেকেই হয়তো ভাবেন, ফিটনেস ধরে রাখতে জয়া নিশ্চয়ই সারাদিন কঠোর ডায়েট আর বিদেশি সব বিদেশি খাবার মেপে মেপে খান। কিন্তু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে জয়া যা জানিয়েছেন, তা শুনলে অবাক হবেন যে কেউই!
শুটিং সেটের ‘জাতীয় খাবার’ ও জয়ার মাথা গরম
সবাই যখন ওজন কমাতে ডায়েট চার্ট নিয়ে ব্যস্ত, জয়া তখন তৃপ্তি করে দেশি খাবার খেতে পছন্দ করেন। তবে শুটিং সেটে তার চাই নির্দিষ্ট কিছু খাবার। জয়া বেশ মজার ছলেই বলেন, “শুটিং সেটে শিঙাড়া, কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ না দিলে আমার রীতিমতো মাথা গরম হয়ে যায়! এগুলো ছাড়া আমার চলেই না, এটা বলতে গেলে আমাদের শুটিংয়ের ‘জাতীয় খাবার’।” শুধু তা-ই নয়, প্রতিদিন সকালে তার দিন শুরু হয় মায়ের হাতের তৈরি এক কাপ দুধ চা দিয়ে। এটি তার জন্য একদম অপরিহার্য।
প্যাস্কিটেরিয়ান জীবনধারা ও প্রাণী হত্যার অপরাধবোধ
খাবারের প্রতি প্রেম থাকলেও জয়ার খাদ্যাভ্যাসে গত কয়েক বছরে এসেছে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন। গত তিন বছর ধরে তিনি নিজেকে ‘প্যাস্কিটেরিয়ান’ (যারা মাংস খান না, কিন্তু মাছ খান) হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইদানীং তিনি মাছ-ডিম খেতেও অস্বস্তি বোধ করছেন।
এর পেছনের কারণ হিসেবে জয়া তার প্রাণী অধিকার (Animal Rights) রক্ষার আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি যখন থেকে অ্যানিমেল রাইটস নিয়ে কাজ শুরু করলাম, তখন থেকে প্রাণী হত্যার বোধটা প্রকট হয়েছে। এখন মুরগির মাংস খেলে মনে হয় আমি রাস্তার চারপেয়ে বাচ্চাদের (কুকুর-বিড়াল) খাবার খেয়ে ফেলছি! এমনকি মাছ বা ডিম খেলেও মনে হচ্ছে আমি প্রাণী হত্যা করছি। এটি আমার এক ধরনের মানসিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তবে নিজে এসব এড়িয়ে চললেও, মেয়েদের সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত প্রোটিন গ্রহণের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
‘সবকিছু কাঁচা খাই না’
জয়াকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে একটি মজার গুঞ্জন রয়েছে যে, তিনি নাকি তার রূপ ধরে রাখতে সবকিছু কাঁচাই খান! এই গুঞ্জনের ব্যাখ্যা দিয়ে অভিনেত্রী হাসতে হাসতে জানান, ছোটবেলা থেকেই সবজি ও সালাদের প্রতি তার বিশেষ ঝোঁক রয়েছে। তবে তিনি সবকিছু কাঁচা খান না, বরং ‘অনেক কিছু’ কাঁচা খেতে পারেন।
ডায়েট নিয়ে জয়ার নিজস্ব দর্শন
দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে জয়ার ফিটনেস রুটিন নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। জয়া মনে করেন, আত্মাকে তৃপ্ত করার জন্য পছন্দের খাবার খাওয়া প্রয়োজন। অনেকেই পশ্চিমা ক্র্যাশ ডায়েট মেনে বিদেশি খাবার খান, কিন্তু জয়া সেই পথে হাঁটেন না। তিনি দেশীয় খাবার ও শাকসবজির ওপরই বেশি নির্ভরশীল। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও যোগব্যায়ামের মাধ্যমেই তিনি খাবার ও ফিটনেসের এই চমৎকার ভারসাম্য ধরে রেখেছেন।
সব মিলিয়ে, জয়া আহসানের এই জীবনযাপন প্রমাণ করে যে, নিজেকে ভালোবেসে ও মানসিক তৃপ্তি নিয়ে খেয়েও সঠিক নিয়মে জীবনযাপন করলে বয়সকে সহজেই হার মানানো যায়!