বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

দেশজুড়ে চর্চায় ‘চক্র ২’

সংস্কৃতি প্রতিবেদক | ঢাকা / ১০ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

প্রায় উনিশ বছর আগের কথা। ময়মনসিংহের কাশর এলাকায় একই পরিবারের ৯ জন সদস্য ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। ‘আদম পরিবার’ নামে পরিচিত সেই মর্মান্তিক ও রহস্যময় ঘটনাটি নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বাংলাদেশকে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মানুষের স্মৃতি থেকে সেই রোমহর্ষক ঘটনার রেশ মুছে যায়নি। সেই ছায়া অবলম্বনেই নির্মাতা ভিকি জাহেদ নির্মাণ করেছিলেন ‘চক্র’। প্রথম সিজনের আকাশচুম্বী সাফল্যের পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ‘চক্র ২’, যা বর্তমান সময়ে দেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সব আলোচনা ও রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

রেকর্ড ভাঙা সাফল্য ও আয়ের জোয়ার

মুক্তির মাত্র সাত দিনেই ‘চক্র ২’ আয়ের দিক থেকে ইতিহাস গড়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘আইস্ক্রিন’-এর তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় সিজনটি প্রথম সাত দিনে আগের সিজনের চেয়ে দ্বিগুণ আয় করেছে। শুধু তাই নয়, রেকর্ড ব্রেকিং নতুন সাবস্ক্রিপশন এবং ভিউয়ের দিক থেকেও এটি এখন প্ল্যাটফর্মটির শীর্ষ তালিকায়। আধুনিক মনস্তত্ত্ব আর ডার্ক ফ্যান্টাসির মিশেলে তৈরি এই সিরিজটি এখন দর্শকদের প্রধান পছন্দের তালিকায়।

সত্য ও কল্পনার নিপুণ খেলা

দর্শকদের মতে, ‘চক্র ২’-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর প্রেক্ষাপট। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ায় দর্শকরা সারাক্ষণই রোমাঞ্চ অনুভব করেন এই ভেবে যে—গল্পের কতটুকু সত্য আর কতটুকু কল্পনা? পরিচালক ভিকি জাহেদ এই ধোঁয়াশাটিকে চিত্রনাট্যে নিপুণভাবে ব্যবহার করেছেন। বাস্তব জীবনের ট্র্যাজেডি যখন পর্দায় ফিকশন হিসেবে ধরা দেয়, তখন তা দর্শকদের অবচেতন মনে গভীর প্রভাব তৈরি করে।

ভৌতিক নয়, মনস্তাত্ত্বিক ভয়ের জয়

সিরিজটি কেবল সস্তা অতিলৌকিক ভয় দেখায় না, বরং মানুষের মনের গহীন কোণে লুকিয়ে থাকা অপরাধবোধ, ট্রমা এবং কর্মফলকে সামনে এনেছে। অনেক দর্শকের মতে, এখানে অতিপ্রাকৃত শক্তির চেয়ে মানুষের অতীত এবং চারিত্রিক স্খলন বেশি ভীতির উদ্রেক করে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একটি পরিবারের ভাঙন এবং অভ্যন্তরীণ সংকট সিরিজটিকে গতানুগতিক হরর থ্রিলার থেকে আলাদা করেছে।

‘প্রফেসর ড. হুমায়ূন’ চরিত্রে তৌসিফের রূপান্তর

পুরো সিরিজ ছাপিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি চর্চিত হচ্ছে ‘প্রফেসর ড. হুমায়ূন’ চরিত্রটি। এই চরিত্রে তৌসিফ মাহবুবের অভিনয় দর্শকদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে। তার শারীরিক পরিবর্তন (ট্রান্সফরমেশন), অদ্ভুত লুক এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়া একজন মানুষের হাহাকার তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলছেন— তৌসিফ নিজেকে ভেঙে এতটা ভয়ংকরভাবে কীভাবে উপস্থাপন করলেন? চরিত্রটি নিয়ে ইন্টারনেটে তৈরি হওয়া মিমস ও কার্টুন এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সব বয়সী দর্শকের সঙ্গে সংযোগ

চরিত্রটির সফলতার বিষয়ে তৌসিফ মাহবুব বলেন, “এই সিরিজে আট থেকে আশি—সব বয়সী দর্শকের সাথে কানেক্ট করার মতো উপাদান রয়েছে। এটি কেবল হরর বা থ্রিলার নয়, বরং মানুষ এতে নিজেদের জীবনের সাথে মিল থাকা অনেক ঘটনা খুঁজে পাচ্ছে। তরুণ থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি চরিত্র এবং তাদের আবেগ যখন দর্শকরা নিজেদের সাথে রিলেট করতে পারছে, তখনই তারা এটি নিয়ে কথা বলছে।”

ভিকি জাহেদ পরিচালিত ৮ পর্বের এই সিরিজে তৌসিফ মাহবুবের পাশাপাশি আজমেরী হক বাঁধন, মৌসুমী মৌ, মেঘলা মুক্তা এবং শাহেদ আলীর শক্তিশালী অভিনয় ‘চক্র ২’-কে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সত্য ঘটনার রোমাঞ্চ আর শক্তিশালী নির্মাণের মেলবন্ধনে ‘চক্র ২’ এখন বাংলাদেশের ওটিটি জগতের অন্যতম সফল মাইলফলক।


এ জাতীয় আরো খবর...