বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

‘পূজা পাট্টি’র আড়ালে ‘লাল সোনা’: সোনামসজিদ বন্দরে ধরা পড়ল ৮ কোটির জাফরান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলা জাফরান, যাকে আন্তর্জাতিক বাজারে বলা হয় ‘লাল সোনা’ বা ‘রেড গোল্ড’। বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দিতে এই মূল্যবান জাফরানকেই সাধারণ ঘাস বা ‘রেড গ্রাস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনার এক অভিনব জালিয়াতি রুখে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আটক করা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের ২০০ কেজি জাফরান।

যেভাবে সাজানো হয়েছিল জালিয়াতির ছক কাস্টমস ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল ‘তোহা তাসু কর্পোরেশন’ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ‘পার্টস অব প্ল্যান্টস’ বা উদ্ভিদজাত পণ্যের একটি চালান নিয়ে আসে। এর ভেতরে ২০০ কেজি ওজনের একটি পণ্যকে ‘রেড গ্রাস’ হিসেবে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ভারতে এই রেড গ্রাস মূলত ‘পূজা পাট্টি’ নামে পরিচিত, যা ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এর আমদানি শুল্ক অত্যন্ত সামান্য। এই চালানের ছাড়করণের দায়িত্বে (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট) ছিল ‘মেসার্স সূচি এন্টারপ্রাইজ’।

সন্দেহ ও ল্যাব টেস্টে বেরিয়ে এল আসল রূপ পণ্যটি সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ভেতরে সংরক্ষিত ছিল। সাধারণ ঘাস ঘোষণা করা হলেও পণ্যটির বাহ্যিক রূপ, রং ও ধরন কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ বাড়ায়।

  • কাস্টমসের পদক্ষেপ: সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সাব্বির রহমান জিসান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এবং সন্দেহের বশে তারা পণ্যটির নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পাঠান।

  • ল্যাবের রিপোর্ট: সোমবার বিসিএসআইআর রাজশাহী গবেষণাগার থেকে নিশ্চিত করা হয় যে, এটি কোনোভাবেই রেড গ্রাস নয়। গবেষণাগারের ফল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংরক্ষণ গবেষণা বিভাগের ইনচার্জ ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, “দুটি পণ্যের রং কাছাকাছি হলেও মাইক্রোস্কোপিক এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি বিশ্বের অন্যতম দামি মসলা জাফরান।”

বাজারমূল্য ও কাস্টমসের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা

দেশের বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি জাফরানের দাম ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সেই হিসাবে আটককৃত এই ২০০ কেজি জাফরানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা। কাস্টমসের উচ্চ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে রাতারাতি বিপুল মুনাফা লুটতেই অসাধু আমদানিকারক এই অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল।

কাস্টমসের সহকারী কমিশনার জিসান আরও জানিয়েছেন, ল্যাবের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ও নথিপত্র এরই মধ্যে কাস্টমস কমিশনারের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটিকে তলব করা হবে। তবে চূড়ান্ত আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে আইনি স্বচ্ছতার স্বার্থে আরও একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ পুরোপুরি প্রমাণিত হলে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির কঠোর আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ জাতীয় আরো খবর...