মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরান ও এর আশপাশের অঞ্চলে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নতুন শ্রমবাজার সন্ধানের বিস্তারিত রূপরেখা দেন।
বিকল্প বাজার নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ইউরোপ ও অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির দেশের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ—যেমন সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়ার সঙ্গে আমরা কাজ করছি। এসব দেশের সঙ্গে দ্রুত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
নতুন বাজারগুলোতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে খুব শিগগিরই সরকারের উচ্চপর্যায়ের সফরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং কোন দেশে কী ধরনের পেশাজীবীর চাহিদা রয়েছে, তা নিরূপণের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে লবিংয়ের বিষয়ে তিনি জানান, “বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দেওয়া হবে।”
জাপান ও এশিয়ার অন্যান্য বাজারে নজর উন্নত দেশগুলোতে বয়স্ক জনসংখ্যার হার বৃদ্ধির কারণে দক্ষ জনশক্তির যে অভাব দেখা দিয়েছে, তা কাজে লাগাতে চায় সরকার। বিশেষ করে জাপানের শ্রমবাজার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সেখানে কর্মী প্রেরণ বাড়াতে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও যুক্ত করেন, শুধু জাপানি নয়, বিশ্ববাজারে ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে “জাপানি, রুশ, আরবি, জার্মান ও ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।”
এর বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে আমাদের কাজ চলছে এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”