ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজ দলের নারীনেত্রীদের তীব্র ক্ষোভ ও তোপের মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা নারীনেত্রীরা কনকচাঁপার মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়াকে ‘সুবিধাবাদিতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসা বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি প্রকাশ্যেই তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? তিনি কি দল করেছেন? বিগত ১৭ বছর আমরা যারা রাজপথে জেল-জুলুম সহ্য করেছি, তাদের মূল্যায়ন কোথায়?”
জেরিন রনি আরও বলেন, “বগুড়ার রাজপথে, ঢাকার রাজপথে আমি ছিলাম। ১৭ বার জেলে গেছি, নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা খেয়েছি। এতদিন কনকচাঁপা কোথায় ছিলেন? এখন যখন সুসময় এসেছে, তখন আমাদের সরিয়ে কেন সুবিধাবাদীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে?”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও বেশ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী নেত্রী একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, দুঃসময়ে যাঁরা দলের হাল ধরেছিলেন এবং অসংখ্য মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের উপেক্ষা করে হঠাৎ করে আগত বা সেলিব্রিটিদের মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়বে। তাঁরা রাজপথের লড়াইয়ে থাকা নেত্রীদেরই সংরক্ষিত আসনে দেখার দাবি জানান।
উপস্থিত নেত্রীদের তোপের মুখে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও শেষ পর্যন্ত নিজের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন কনকচাঁপা। সহকর্মীদের এই তীব্র ক্ষোভের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি সংক্ষিপ্তভাবে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি এবং আমি (মনোনয়নের বিষয়ে) আশাবাদী।”
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল থেকেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে দলের হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে কয়েকশ নারীনেত্রী ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে কনকচাঁপাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন দলের ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।