বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

বিদেশি ঋণ ও সহায়তা জাতিকে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে দেবে না: ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা / ১৩ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পরনির্ভরশীলতা একটি জাতির অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায়। বিদেশি ঋণ আর সহায়তার ওপর ভিত্তি করে কোনো জাতি কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারে না। আজ শনিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়, যার ফলে শাসকগোষ্ঠী সমাজের প্রকৃত চিত্র আর দেখতে পায় না। আমাদের অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে—পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না। আসুন, আমরা একটি স্বচ্ছ কাঁচের (ট্রান্সপারেন্সি গ্লাস) ভেতর দিয়ে সমাজটাকে দেখি এবং মানুষের হাহাকার বোঝার চেষ্টা করি।”

কৃষিখাতকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে—কৃষি বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। সমাজে যার যেখানে গুরুত্ব পাওয়া উচিত, তাকে ততটুকুই দিতে হবে। কৃষি আমাদের প্রধান, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”

জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, জ্বালানি ছাড়া দেশের চাকা সচল রাখা অসম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের নিজেদের পেট্রোল এবং অকটেনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমরা আমদানিনির্ভর হয়ে আছি। আল্লাহ আমাদের অফুরন্ত সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু এক্সপার্ট বা দক্ষ জনবলের অভাবে আমরা নিজেদের সম্পদ নিজেরাই উত্তোলন করার উদ্যোগ নিতে পারছি না।” বাজারে কৃত্রিম জ্বালানি সংকটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বাইরে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বলা হয় তেল নেই, অথচ পরে ভেতরে মজুত পাওয়া যায়। এই অসাধুতা বন্ধ করতে হবে।”

সংসদে সম্প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। বিশেষ করে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন ও সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “যদি দেশ আগের কায়দায় চালানোর মতলব থাকে, তবে এই যে প্রাণহানি হলো, পঙ্গুত্ব বরণ করল হাজারো মানুষ, মায়েদের বুক খালি হলো—এর জবাব কে দেবে? এর দায়ভার রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি দেশের সকল নীতির নিয়ন্ত্রণ থাকে রাজনীতির হাতে। “রাজনীতি যদি ঠিক থাকে এবং রাজনীতিবিদরা যদি সৎ হন, তবে দেশের প্রতিটি নীতি সঠিক পথে পরিচালিত হবে। অন্যথায় জননিরাপত্তা ও উন্নয়ন সুদূরপরাহত।”

এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এএফবি) সভাপতি কৃষিবিদ ড. এ টি এম মাহবুব-ই ইলাহী (তাওহীদ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংগঠনের মহাসচিব কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।


এ জাতীয় আরো খবর...