বর্তমান সরকার সংবিধান ও আইনের তোয়াক্কা না করে দেশ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে যে ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার সমাধান এখন আর আলোচনার টেবিলে হবে না, বরং রাজপথেই এর ফয়সালা হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
সংবিধান লঙ্ঘন ও বিচারব্যবস্থার সমালোচনা শাহরিয়ার কবির বলেন, “বঙ্গভবনে গিয়ে সেনাপ্রধানের নির্দেশে ক্ষমতা গ্রহণ করা কিংবা রাতের আঁধারে খালেদা জিয়ার মুক্তি—সবকিছুই হয়েছে সম্পূর্ণ সংবিধানবহির্ভূতভাবে। বর্তমান সরকার পঞ্চম সংশোধনীর দোহাই দিয়ে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কাজ করছে, যা সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকার চরম অপচয়।”
দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “নিজের বেলায় বৈঠক আর অন্যের বেলায় জুতা—এই নীতি চলছে। যারা একসময় রায় দিয়েছিলেন যে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করা যাবে না, আজ তারাই বঙ্গভবনে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এই বিচারব্যবস্থার কাছে ন্যায়বিচার আশা করা একেবারেই বৃথা।”
বিএনপির অতীত ভূমিকার কড়া সমালোচনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে এই আইনজীবী বলেন, “১৯৮৪ সালে অধ্যাপক গোলাম আযম প্রথম এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার রূপরেখা দিয়েছিলেন। অথচ ১৯৯১ সালে বিএনপি বলেছিল তারা এই ব্যবস্থা বোঝে না। পরে গণআন্দোলনের মুখে তারা এটি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়। বিএনপির ইতিহাসই হলো, তাদের শাসন না করলে তারা মাথায় উঠে যায়।” দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বলেন, “আগে বিএনপি নয়, আগে বাংলাদেশ।”
ভারতের হস্তক্ষেপের অভিযোগ সরকারের নিয়ন্ত্রণ দেশের বাইরে থেকে হচ্ছে দাবি করে শাহরিয়ার কবির বলেন, “এই সরকারের সুইচ প্রধানমন্ত্রীর হাতে নেই, সুইচ হচ্ছে ভারতের হাতে। আমরা কি আজাদি চাই নাকি গোলামি? যদি আজাদি চাই, তবে রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।