শিরোনামঃ
সীমান্তে কৃষকদের খাদ্য ও কৃষি নিরাপত্তা নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: জাতীয় পার্টির খরচ মাত্র ৫ লাখ টাকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: ইরাক ও মরক্কো দলের অফিশিয়াল এআই স্পনসর গুগল জেমিনি রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন: যুদ্ধের সময় ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব প্রার্থনা… রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর কোরবানির চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ সরকারের, সংরক্ষণে দেওয়া হবে বিনা মূল্যে লবণ নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ: জরুরি সাধারণ সভা ও নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ অধ্যায়, ৭ই নভেম্বর ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

অনন্য এক অভিজ্ঞতার গল্প এবং একটি ধাঁধা

বাদল সৈয়দ / ১৮ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

লেখাটি দয়া করে পড়বেন এবং একটি ধাঁধার উত্তর দেবেন, তাহলো- এ ঘটনার সবচে মহৎ মানুষটি কে?
পে ইট ফরোয়ার্ড -এর মাধ্যমে বিপন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অসাধারণ কিছু অভিজ্ঞতা হয়। শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া ছাত্রছাত্রীদের উঠে দাঁড়াতে দেখার অভিজ্ঞতা।
তাদের গল্প আমরা খুব কম বলি- তবে মাঝে মাঝে নৈশব্দ ভেঙে দুয়েকটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে খুব ইচ্ছে করে।
সেরকম একটি আজ আপনাদের শুনাবো।
২০১৮ সালে আমরাএকজন শিক্ষার্থীর খোঁজ পেলাম। সে অজপাড়াগাঁর অখ্যাত কলেজ থেকে খুব ভালো রেজাল্ট করে এইচএসসি পাশ করে একটি পাবলিক বিস্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
একেবারে শিশুকালে সে মা-বাবাকে হারিয়েছে। তার থাকারও কোনো জায়গা ছিল না। গ্রামের এক দরিদ্র বৃদ্ধা ভিখারী তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের খরচ তাকেই জোগাড় করতে হতো। সে এ খরচ জোগাড় করেছে বাসাবাড়িতে কাজ কিংবা নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এসব কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না।
সব শুনে আমরা তাকে পাঠালাম।
ছেলেটির সাথে প্রথম দেখায় আমি চমকে উঠলাম। শরীরের যে অংশটুকু দেখা যাচ্ছে তা কাটাকুটিতে ভর্তি। কপালেও কাটা দাগ। একটা চোখও ক্ষতিগ্রস্ত।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম- ‘তোমার শরীরে এত দাগ কেন?’
সে নিচু কণ্ঠে জবাব দিলো –
‘আমি সারাজীবন মার খেয়ে বড় হয়েছি।তাছাড়া, এইচএসসি পরীক্ষার আগে একটা বড় এক্সিডেন্ট করেছিলাম। সে জন্যও অনেক সেলাই পড়েছে।’
পে ইট ফরোয়ার্ডের দুজন ডোনার ( আমরা বলি অভিভাবক) তার দায়িত্ব নিলেন। সাথে যুক্ত হলেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক।
এরপর?
এরপর আমরা একটি নক্ষত্রকে জ্বলে উঠতে দেখলাম।
সে প্রতি সেমিস্টারে রেকর্ড নাম্বার নিয়ে ফার্স্ট হতে লাগল!
ছাত্র অবস্থাতেই বিভিন্ন সায়েন্স জার্নালে তার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হতে লাগল। মোট তেরটি গবেষণাপত্র। এর মধ্যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ মানের Q1 জার্নালে প্রকাশিত হলো চারটি রিসার্চ পেপার!
তার নাম হয়ে গেলো -‘বিস্ময় বালক’।
এরমধ্যে আমাদের দুজনের সম্পর্কেরও বড় পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে ও আমাকে ডাকতো ‘স্যার’- কখন যে তা ‘আব্বু’ হয়ে গেলো বুঝতেই পারিনি।
একসময়ের বাসাবাড়িতে কাজ করা ছেলেটি- নির্মাণ শ্রমিক ছেলেটি-রাস্তায় মার খাওয়া ছেলেটি এখন কী করে জানেন?
যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো সে এখন সেখানকার শিক্ষক!
একজন প্রকৌশলী এবং একই সাথে প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক!
প্রথম যেদিন ও জয়েন করল সেদিন ফোন করে খবরটি দেওয়ার সময় তার কন্ঠ থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসছিল কান্না।
শুধু সে কাঁদছিল তা নয়। তার সাফল্য পুরো পে ইট ফরোয়ার্ড পরিবারকে কাঁদিয়েছিল।
সে অশ্রুজল ছিল বড়ই মধুর।
এবার বলুন এ অসাধারণ অভিজ্ঞতার সবচেয়ে মহৎ মানুষ কে?
পাদটীকা: ১ ) শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য পে ইট ফরোয়ার্ড কোনো ধরনের ফান্ড রেইজ করে না। শুধু শিক্ষার্থী ও ডোনারের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তবে বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার অগ্রগতি মনিটর করে


এ জাতীয় আরো খবর...