সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

নেতানিয়াহুকে বলব ইরানে যেন পাল্টা হামলা না হয়: ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ সামরিক পরিস্থিতির মাঝে এক অপ্রত্যাশিত ও চাঞ্চল্যকর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে রোববার মধ্যরাতে ইসরায়েলের বুকে ইরানের চালানো ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, তেল আবিব যাতে পুনরায় কোনো পাল্টা আঘাত বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নেয়—তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে জরুরি টেলিফোনে কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। রোববার আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে (Axios) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের শান্তিকামী ও কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করে বলেন, “আমি এখনই বিবিকে (বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ডাকনাম) ফোন করে স্পষ্ট ভাষায় বলব যে, ইরানে যেন কোনোভাবেই নতুন করে পাল্টা হামলা চালানো না হয়। তারা উভয় পক্ষই নিজেদের মতো করে মজা নিয়েছে—ইসরায়েল নিজেদের স্টাইলে বৈরুতে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানও তার জবাব দিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এই অঞ্চলে আমাদের আর নতুন কোনো যুদ্ধ বা হামলার প্রয়োজন নেই।” ট্রাম্প আরও যোগ করে বলেন, “সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেউ হতাহত বা আঘাত পায়নি। তাই আমি আশা করছি, ইসরায়েল এবার অন্তত কোনো প্রতিশোধ নেবে না। তবে যদি বিবি আমার কথা না শুনে আবারও পাল্টা হামলা চালান, তাহলে এই অন্তহীন সংঘাত গত ৪৭ বছর বা গত ৩,০০০ বছরের মতোই চিরকাল চলতে থাকবে, যা কেউ থামাতে পারবে না।”

উল্লেখ্য, গত রোববার স্থানীয় সময় মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে একযোগে অন্তত ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এই হামলার পরপরই ইরানের এলিট সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গত শনিবার (৬ই জুন) লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিরাহ জেলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চালানো রক্তক্ষয়ী বিমান অভিযানের সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবেই এই রকেট ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার বৈরুতে আইডিএফের সেই আকস্মিক বিমান হামলায় ৪টি নিরীহ শিশুসহ অন্তত ২০ জন সাধারণ নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছিলেন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করায়।

ইসরায়েলের বুকে সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বিশেষ বার্তায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ উপদেষ্টা মোহসিন রেজায়ি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইসরায়েল ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেন, “আমরা বারবার স্পষ্ট করে বলে আসছি যে, লেবাননে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং আগ্রাসন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান কখনোই সহ্য করবে না। আজ রাতে আমরা কেবল সেই আগ্রাসনকারীদের উপযুক্ত জবাবটুকু দিলাম।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তবে এটি ছিল আমাদের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা। অশুভ ও ইহুদিবাদী শক্তি যদি আমাদের এই চরম সতর্কবার্তাকে আমলে না নেয় এবং পুনরায় কোনো ধৃষ্টতা দেখায়, তবে ইরানের পরবর্তী আঘাত হবে আরও ব্যাপক, ভয়াবহ এবং এর জন্য আগ্রাসনকারীদের চিরকাল চড়া মূল্য দিতে হবে।”

অন্যদিকে, ইরানের এই আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও চরম ক্ষোভ ও যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। তাৎক্ষণিক এক উগ্র ও প্রতিক্রিয়াশীল বিবৃতিতে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিবিদ এবং দেশটির বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিতর্কিত মন্ত্রী ইতামার বেন গিভর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বার্তা পোস্ট করেছেন। তেহরানের হুঁশিয়ারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেন গিভর সরাসরি প্রতিহিংষা প্রকাশ করে লিখেছেন, “এর জবাব খুব শীঘ্রই দেওয়া হবে এবং তাসের ঘরের মতো পুরো তেহরানকে জ্বালিয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে।” উগ্রপন্থী মন্ত্রীর এই যুদ্ধংদেহী মন্তব্যের পরেই মূলত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা থামাতে এখন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ময়দানে নামতে হচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর...