ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আইনি অনুমতি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকার অভিযোগে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করে দিয়েছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপের পর রাজ্যের মুসলিম সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) কলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক ‘পূবের কলম’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ‘অরুণাচল প্রদেশ আদিবাসী যুব সংগঠন’ (এপিআইডব্লিউও) নামের একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন রাজধানী অঞ্চলের এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অবৈধ’ দাবি করে আসছিল। মসজিদগুলো অবিলম্বে বন্ধ বা উচ্ছেদের দাবিতে তারা এলাকায় ‘বন্ধ’ বা হরতালের ডাক দেয়। স্থানীয় উগ্র ও কট্টরপন্থী সংগঠনের এমন আলটিমেটাম ও চাপের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তড়িঘড়ি করে মসজিদগুলো বন্ধ করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একজন সহকারী কমিশনার এবং ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ইটানগর রাজধানী অঞ্চলের ঐতিহাসিক জামা মসজিদসহ মোট ১৫টি মসজিদ সিলগালা ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব স্থাপনা নির্মাণে যথাযথ আইনি অনুমোদন বা বৈধ নথিপত্র ছিল না। তবে এই ঘটনার পরপরই অরুণাচলের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
মসজিদ সিলগালা করার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘অল অরুণাচল প্রদেশ মসজিদ কল্যাণ কমিটি’ (এএপিএমডব্লিউসি)। সংগঠনটি জেলা প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে মসজিদগুলো খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে। একই সাথে তারা অরুণাচল প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনের ‘পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যমূলক’ প্রয়োগের মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে।
এএপিএমডব্লিউসি-র জ্যেষ্ঠ সদস্য গিয়াহ লিমপেহ সুলতান ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রশাসন যদি কেবল মসজিদের বৈধতা ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়, তবে একই আইনি মানদণ্ড ও নিয়ম রাজ্যের অন্য সব ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত।”
গিয়াহ লিমপেহ সুলতান তথ্য অধিকার আইনের (RTI) অধীনে প্রাপ্ত সরকারি নথির বরাত দিয়ে দাবি করেন, কোনো প্রকার পূর্বানুমতি বা সম্পূর্ণ আইনি অনুমোদন ছাড়াই ইটানগর রাজধানী অঞ্চলে আরও অসংখ্য গির্জা, গুরুদ্বার, নামঘর এবং মন্দির দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে, কেবল মুসলিমদের উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে এই আইনি চাপ সৃষ্টি করছে।
কমিটির শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা দেশের প্রচলিত আইন বা নথিপত্র যাচাইয়ের বিরুদ্ধে নন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে যখন কেবল একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এমন একপেশে ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়, তখন তা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করে। তারা এই পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও শান্তিপূর্ণ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।