২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আসরে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেসি ও রোনালদো ক্লাব পর্যায়ে অসংখ্যবার মুখোমুখি হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের লড়াই আজও অধরা। তবে এবারের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের বিন্যাস এমনভাবে নির্ধারিত হয়েছে যে, নকআউট পর্বের হিসাব-নিকাশ মিলে গেলে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হতে পারে এই দুই মহাতারকার। বর্তমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপে এবং পর্তুগাল ‘কে’ গ্রুপে খেলছে। আর্জেন্টিনার ইতোমধ্যে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে রোনালদোর পর্তুগালও তাদের গ্রুপে শীর্ষস্থান ধরে রাখার দৌড়ে এগিয়ে আছে।
যদি উভয় দলই নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান ধরে রেখে নকআউট পর্বের বাধাগুলো সফলভাবে পার করতে পারে, তবে ১১ জুলাই কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের ঐতিহাসিক লড়াইটি মাঠে গড়াতে পারে। এই সম্ভাব্য মহারণকে ঘিরে টিকিটের বাজারে রীতিমতো উন্মাদনা শুরু হয়েছে। চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ায় টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে; সবচেয়ে সস্তা টিকিটের মূল্য শুরুই হচ্ছে ৩,৯০০ মার্কিন ডলার থেকে। প্রিমিয়াম আসনের টিকিটের দাম ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। সূচি ঘোষণার পরপরই টিকেটের দাম ১৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে এই লড়াইয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। কারণ, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর আগে রাউন্ড অব ৩২ এবং রাউন্ড অব ১৬-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ধাপগুলো সফলভাবে অতিক্রম করতে হবে। বিশ্বকাপের এই আসরে মেসি ও রোনালদো দুজনেই নিজেদের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন, যা একটি রেকর্ড। মেসি তার দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত রেখেছেন এবং গ্রুপ পর্বে নিয়মিত গোল করে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, রোনালদোও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই লড়াইটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং আধুনিক ফুটবলের দুই কিংবদন্তির শেষ বড় লড়াইয়ের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ। যদিও টিকিটের উচ্চমূল্যের কারণে অধিকাংশ সমর্থকের পক্ষেই সরাসরি মাঠে বসে এই মহারণ দেখা সম্ভব হবে না, তবুও টেলিভিশন পর্দায় এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত। যদি সব সমীকরণ মিলে যায় এবং ফুটবল ভাগ্য সহায় হয়, তবেই হয়তো ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতীক্ষিত এই ‘লাস্ট ড্যান্স’ বা শেষ নৃত্য দেখার সুযোগ হবে সমর্থকদের। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, মেসি-রোনালদো কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি হতে পারবেন?