শিরোনামঃ
রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনা যায় না, এটা ‘ভুল কনসেপ্ট’: আখতার হোসেন ‘১৭ বছরের ত্যাগ-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে ছাত্রদল’ ইরান ইস্যুতে ‘প্রকাশ্য’ সমঝোতায় অস্বীকৃতি হোয়াইট হাউসের আসমানী মুসিবত এড়ানোর জন্য ১০টি পরামর্শ চলতি অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন, ২ চিকিৎসককে বরখাস্ত আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী চাকরি না খুঁজে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলুন: নবীন শিক্ষার্থীদের ফখরুল ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাসপাতালেই ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী সংক্রমণ
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

মানবাধিকার লঙ্ঘনে দুই সাবেক রাষ্ট্রপতির ভূমিকা তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে গুম, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে বিচারের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে পৃথক আবেদন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আরেকটি আবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা তদন্তেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির আহ্বায়ক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি আবেদন জমা দেন।

একই দিনে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস আরেকটি আবেদন দাখিল করেন। তার আবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়।

একই আবেদনে কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগগুলো আমি পড়ে দেখিনি। অভিযোগ আমার কাছে এলে আমরা সাধারণত তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দিই। এক্ষেত্রেও আমার কাছে উপস্থাপিত হলে, সেটা আমি তদন্ত সংস্থায় পাঠিয়ে দেব। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

আয়াস তার আবেদনে দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন ও গুমের ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

তার ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিনের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকা, ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আবেদনে আয়াস আরও দাবি করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয় এবং পরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম জানিয়েছে, তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বা সংশ্লিষ্ট সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজনের সম্ভাব্য ভূমিকা আইনানুগভাবে তদন্ত করা হোক। তাদের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, রিয়াজ আহমেদ, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, হিরো আলম, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, সুজাতা আজিম, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, আসাদুজ্জামান নূর এবং মারিয়া কিসপট্টা।

রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের দাবি, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে তদন্ত করা উচিত। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, অভিযোগগুলো আইন অনুযায়ী যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।


এ জাতীয় আরো খবর...