শিরোনামঃ
৭২ বছর বয়সে ৩৫০ কোটির ব্লকবাস্টার অনলাইনে অর্ধেকের বেশি তথ্যই ভুল বা বিভ্রান্তিকর ‘নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে’ জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব: শফিকুর রহমান জুলাই ও অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতর্কিত করার বয়ান ‘আওয়ামী লীগের বয়ান’: শফিকুল আলম সংসদ কার্যকর থাকলে লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি: জহির উদ্দিন স্বপন বিএনপি নায়ক হতে পারতো, কিন্তু ভিলেনে পরিণত হয়েছে: তাজুল ইসলাম রংপুরে চার খুনের বিচার দ্রুত শেষ করার আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু করতে সৌদির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে: ধর্মমন্ত্রী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার : শামা ওবায়েদ
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

অনলাইনে অর্ধেকের বেশি তথ্যই ভুল বা বিভ্রান্তিকর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯ বার
প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অনলাইনে থাকা অর্ধেকেরও বেশি তথ্যে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর উপাদান রয়েছে। ইউএনডিপি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ঢাকায় আয়োজিত এক নীতি সংলাপে উপস্থাপিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে অনলাইনে বিশ্লেষিত বিষয়বস্তুর অর্ধেকেরও বেশি ছিল ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য।

একই সঙ্গে এক-পঞ্চমাংশের বেশি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক মাধ্যমে বিকৃত মিডিয়া ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশের দ্রুত প্রসারমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনআস্থা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

তথ্য প্রবাহের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এবং ডিজিটাল জবাবদিহি জোরদার করতে সরকার, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের জোর আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা ও সরকারি সেবায় বড় ধরনের গতি এনেছে। কিন্তু অবিশ্বস্ত তথ্যের ব্যাপক বিস্তার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা শুধু অপপ্রচার ও ভুল তথ্য মোকাবিলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জনআস্থা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নাগরিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত।

মন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচার ও এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট জনমত প্রভাবিত করার পাশাপাশি সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে শিশু ও তরুণদের ওপর।

তিনি একটি নিরাপদ ও বিশ্বস্ত ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, সংবাদমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশীদারত্বের আহ্বান জানান।

এ সময় ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, প্রযুক্তি প্রসারের সঙ্গে তথ্য অতি দ্রুত ছড়াচ্ছে, ফলে জন আস্থা বজায় রাখতে বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাই এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া যেমন বাকস্বাধীনতা বাড়িয়েছে, তেমনি ভুল তথ্য দ্রুত বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যোগ করেন তিনি।

দায়িত্বশীল সাংবাদিক ও সংবাদ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্য প্রকাশের আগে যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

আলোচনায় অংশগ্রহনকারীরা শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি বাড়ানো, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং নাগরিকদের ভুল তথ্য শনাক্ত করার দক্ষতা বাড়াতে ডিজিটাল ও গণমাধ্যম সাক্ষরতা বিস্তারের তাগিদ দেন।

জার্মানি সরকারের সহযোগিতায় ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও অংশীদারদের উদ্যোগে ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক এই নীতি সংলাপ আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি, বিটিআরসি, বাংলাদেশ পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এ জাতীয় আরো খবর...