শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন

৭ দিনের রোডম্যাপে হরমুজ প্রণালি খোলার প্রস্তাব ইরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান এ পথ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক বাজারে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জলপথটি পুনরায় খুলে দিতে ওয়াশিংটনকে ৭ দিনের একটি রোডম্যাপ দিয়েছে তেহরান। খবর আল জাজিরা।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। উভয় পক্ষই এ পরোক্ষ যোগাযোগকে ইতিবাচক বললেও এখনো কোনো বড় কূটনৈতিক সাফল্য মেলেনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলে পরদিন থেকেই ৭ দিনের এ সময়সূচি কার্যকর সম্ভব। তবে হরমুজ খোলা নিয়ে আলোচনা এগোলেও পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে দুপক্ষের অবস্থান এখনো সম্পূর্ণ বিপরীত।

যদিও আরাঘচি প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেননি, তবে জানান এটি মূলত গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ পরিকল্পনা মূলত গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। সে সমঝোতায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত রাখার কথা ছিল, যাতে ওই সময়ের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু ৬০ দিনের পর কী হবে, সে বিষয়ে সমঝোতায় স্পষ্ট কিছু উল্লেখ ছিল না। নতুন প্রস্তাবে ইরান সেই দীর্ঘ সময়সীমাকে কমিয়ে মাত্র সাত দিনে নিয়ে এসেছে এবং আলোচনার ক্রমও বদলে দিয়েছে।

আল জাজিরা প্রকাশিত প্রস্তাবিত রোডম্যাপের প্রথম ধাপে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বন্ধ হবে। দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করবে। এরপর সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। সবশেষে হরমুজ চালু হওয়ার পর শুরু হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত শান্তি আলোচনা। অর্থাৎ, ইরানের প্রস্তাবে পারমাণবিক ইস্যু প্রথম নয়; বরং হরমুজ পুনরায় চালু করাকেই আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।

জুন মাসের সমঝোতায় ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তির শর্ত থাকলেও প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব ভেস্তে যায়। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক আরবান কনিংহ্যাম মনে করেন, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণই ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রধান হাতিয়ার। তাই এটি তেহরানের জন্য ‘রেড লাইন’।

একই সঙ্গে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র সব সমস্যা পৃথকভাবে না দেখে এক প্যাকেজে সমাধান করতে অনড়।

নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আরাঘচি বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করলেও, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এটিকে কোনো বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি বলা ঠিক হবে না।

মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক বুরজু ওজচেলিকের মতে, ইরানের ৭ দিনের পরিকল্পনা হরমুজ সংকট নিরসনের একটি নতুন রূপরেখা সামনে আনলেও, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে দুই দেশের মৌলিক মতপার্থক্য। মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ক্ষতি সহ্য করে অবস্থান ধরে রেখেছে ইরান। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের নমনীয়তার ওপরই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালী চালুর ভবিষ্যৎ।


এ জাতীয় আরো খবর...