আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন ও নির্ণায়ক অধ্যায় যুক্ত হয়। একুশে ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত বিস্ফোরণের মাত্র ৫ দিন আগে, এই দিনটিতেই জেলের ভেতর থেকে আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে দেন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমেদ।
অনশনের ঘোষণা
১৯৫২ সালের আজকের এই দিনে (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি এবং বিনা বিচারে আটক রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমেদ। জেল কর্তৃপক্ষের শত বাধা সত্ত্বেও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
ফরিদপুর জেলে স্থানান্তর
তৎকালীন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ও শাসকগোষ্ঠী আশঙ্কা করছিল, ঢাকায় থাকলে শেখ মুজিব ও মহিউদ্দিন আহমেদ ছাত্রনেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে ২১ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট ও আন্দোলনকে আরও চাঙ্গা করে তুলবেন। এই আশঙ্কা থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোরেই তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
নারায়ণগঞ্জে স্লোগান ও খবর প্রচার
১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে তাদের পুলিশ পাহারায় প্রথমে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হয়। সেখান থেকে স্টিমারে করে তাদের ফরিদপুর পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ স্টিমার ঘাটে এবং চাষাঢ়ায় চেনা মুখ দেখলেই শেখ মুজিব ও মহিউদ্দিন আহমেদ কৌশলে তাদের অনশনের কথা জানিয়ে দেন এবং ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান দেন। তাদের এই কৌশলের কারণেই অনশনের খবর দ্রুত ঢাকায় ছাত্রনেতাদের কাছে পৌঁছে যায়।
আন্দোলনে প্রভাব
১৬ ফেব্রুয়ারির এই অনশন কর্মসূচিই মূলত ২১ ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের বারুদে আগুন দেয়। প্রিয় নেতাদের অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ১৪৪ ধারা ভাঙার মানসিক প্রস্তুতি এবং ২১ ফেব্রুয়ারিকে সফল করার পেছনে এই অনশন ছিল এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক শক্তি ও অনুপ্রেরণা।
টানা ১২ দিন অনশনের পর ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তির আদেশ পান। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি নেওয়া সেই সাহসী পদক্ষেপই ছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট।