শিরোনামঃ
৫ দিনে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কত? মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তিতে বড় ধাক্কা: কাতারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১০ কোটি ডলারের রাডার ধ্বংস অগ্নিঝরা ৪ মার্চ: উত্তাল জনসমুদ্র আর স্বাধীনতার অদম্য শপথ ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর যাত্রা অব্যাহত থাকবে: নতুন গভর্নর দুদকের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ: সচিবালয়ে ১০ মিনিটের আনুষ্ঠানিকতায় বিদায় প্রশাসনে বড় পরিবর্তন: পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ ১২ মার্চ সংসদে উঠছে অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ‘একটি দল নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে’: শিশির মনির ইউক্রেন যুদ্ধ: রাশিয়ার হয়ে লড়তে যাওয়া শতাধিক বাংলাদেশির মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর ইরানে হামলা ও মার্কিন অর্থনীতির ‘অগ্নিপরীক্ষা’
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

একুশের রক্তঝরা সোপান: চূড়ান্ত বিস্ফোরণের ৪৮ ঘণ্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

 ১৯৫২ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি। মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এই দিনটি ছিল বারুদ ঠাসা এক আগ্নেয়গিরির মতো। একদিকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও ১৪৪ ধারা জারির হুমকি, অন্যদিকে বাঙালির মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে অদম্য সংকল্প—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে ঢাকা তখন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়।

১. উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

১৮ই ফেব্রুয়ারি রাতে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণার পর ১৯শে ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছিল প্রচণ্ড উত্তেজনায় টইটম্বুর। কলাভবন (পুরানো আমতলা) প্রাঙ্গণে ছাত্ররা জড়ো হতে শুরু করেন। ক্লাস বর্জন করে হাজার হাজার ছাত্র বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। তাঁদের কণ্ঠে তখন একটিই স্লোগান— “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, ১৪৪ ধারা মানি না”

২. মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় সভা

এদিন বিকেলে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরদিন অর্থাৎ ২০শে ফেব্রুয়ারি সারা দেশে হরতাল ও ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারের ১৪৪ ধারা জারির প্রেক্ষাপটে আন্দোলনের কৌশল কী হবে, তা নিয়ে নেতাদের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক চলে।

৩. ছাত্রদের অনড় অবস্থান

নেতাদের একাংশ যখন আইনি জটিলতা নিয়ে চিন্তিত, তখন ছাত্ররা ছিলেন সম্পূর্ণ আপসহীন। হলের ছাত্র সংসদগুলো (সলিমুল্লাহ হল, ফজলুল হক হল) পৃথক সভা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, যেকোনো মূল্যে ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হবে। ১৯শে ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে বিভিন্ন হলের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সাঁটানো হয় এবং আন্দোলনের লিফলেট বিলি করা হয়।

৪. সরকারের দমননীতি ও পুলিশের মহড়া

ছাত্রদের এই গণজাগরণ দেখে তৎকালীন নূরুল আমীন সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ১৯শে ফেব্রুয়ারি সারা দিনই ঢাকার রাস্তায় পুলিশের সশস্ত্র টহল এবং টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ার মহড়া চলতে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয় পুলিশি পাহারা। মূলত ২০ ও ২১শে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিকে ভণ্ডুল করতেই সরকার ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছিল।

৫. চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি

১৯শে ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল মূলত এক শান্ত ঝড়ের পূর্বাভাস। সাধারণ মানুষ ও ছাত্রদের মধ্যে এই দিনেই অলিখিত ঐক্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল। মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষও বুঝতে পারছিলেন, পরদিন থেকে ঢাকার রাজপথ রক্তে রাঙানো হতে পারে।

আজকের ১৯শে ফেব্রুয়ারি দাঁড়িয়ে আমরা যখন সেই দিনটিকে স্মরণ করি, তখন স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, ১৯শে ফেব্রুয়ারির সেই প্রস্তুতি আর সংকল্পই না থাকলে ২১শে ফেব্রুয়ারির মহান বিজয় সম্ভব হতো না।


এ জাতীয় আরো খবর...