শিরোনামঃ
৫ দিনে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কত? মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তিতে বড় ধাক্কা: কাতারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১০ কোটি ডলারের রাডার ধ্বংস অগ্নিঝরা ৪ মার্চ: উত্তাল জনসমুদ্র আর স্বাধীনতার অদম্য শপথ ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর যাত্রা অব্যাহত থাকবে: নতুন গভর্নর দুদকের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ: সচিবালয়ে ১০ মিনিটের আনুষ্ঠানিকতায় বিদায় প্রশাসনে বড় পরিবর্তন: পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ ১২ মার্চ সংসদে উঠছে অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ‘একটি দল নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে’: শিশির মনির ইউক্রেন যুদ্ধ: রাশিয়ার হয়ে লড়তে যাওয়া শতাধিক বাংলাদেশির মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর ইরানে হামলা ও মার্কিন অর্থনীতির ‘অগ্নিপরীক্ষা’
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

১৯৫২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি: জেলের ভেতর আমরণ অনশন, বাইরে বারুদের গন্ধ

নিউজ ডেস্ক / ৭ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালেই আর মাত্র চার দিন পর সেই মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে আপাতদৃষ্টিতে ঢাকার রাজপথ কিছুটা শান্ত মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে ফুঁসছিল ক্ষোভের আগুন। মূলত এই দিনটিতেই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়, যা ২১শে ফেব্রুয়ারির বিস্ফোরণকে ত্বরান্বিত করেছিল।

অনশনের নোটিশ ও জেলের ভেতর বিদ্রোহ

ভাষাসৈনিকদের ডায়েরি ও ঐতিহাসিক দলিল থেকে জানা যায়, ১৯৫২ সালের এই দিনে (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান (পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু) এবং মহিউদ্দিন আহমেদ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি এবং বিনাবিচারে রাজবন্দীদের আটক রাখার প্রতিবাদে তারা জেলের ভেতর থেকেই আমরণ অনশন করার সিদ্ধান্ত নেন।

জেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে যায়। ছাত্রদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী একটি চতুর কৌশল নেয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলেই জেল কর্তৃপক্ষ শেখ মুজিব ও মহিউদ্দিন আহমেদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর জেলে স্থানান্তরের আদেশ দেয়।

ফরিদপুর যাত্রা ও এক চিরকুট

সেদিন বিকেলে তাদের দুজনকে জেল গেট থেকে একটি ট্যাক্সিতে করে প্রথমে সদরঘাট নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে স্টিমারে করে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তারা। যাওয়ার আগে কৌশলে শেখ মুজিব ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ্যে একটি গোপন চিরকুট পাঠিয়ে যান। বার্তাটি ছিল পরিষ্কার—যেকোনো মূল্যে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, ২১শে ফেব্রুয়ারি হরতাল ও বিক্ষোভ সফল করতে হবে।

এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়, কিন্তু খবরটি দাবানলের মতো ছাত্রনেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকে সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনা ছাত্রদের মনোবল ভাঙার বদলে আরও দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ঢাকার রাজপথের প্রস্তুতি

অন্যদিকে, ১৭ ফেব্রুয়ারি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ২১শে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দেশব্যাপী হরতাল ও আইন অমান্য আন্দোলনের জন্য তহবিল সংগ্রহ (ফ্ল্যাগ ডে-র পরবর্তী কার্যক্রম) এবং লিফলেট বিতরণের কাজ চলছিল পুরোদমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্ররা ছোট ছোট জটলায় সমবেত হয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করছিল।

শাসকগোষ্ঠী তখনো ১৪৪ ধারা জারির চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি (যা ২০ ফেব্রুয়ারি দেওয়া হয়), কিন্তু বাতাসে তখন বারুদের গন্ধ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার বুঝতে পারছিল, ২১শে ফেব্রুয়ারি বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

তাৎপর্য

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭ ফেব্রুয়ারির এই অনশন শুরুর সিদ্ধান্ত এবং নেতাদের জেল স্থানান্তরের ঘটনাটি ছিল ২১শে ফেব্রুয়ারির বারুদে দেয়া আগুনের স্ফুলিঙ্গ। শেখ মুজিবুর রহমানের অনশনের খবর ছাত্রদের আবেগকে তীব্রতর করেছিল, যা পরবর্তীতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার মনস্তাত্ত্বিক শক্তি জুগিয়েছিল।

বায়ান্নর সেই উত্তাল দিনে ১৭ ফেব্রুয়ারি ছিল ঝড়ের ঠিক আগের স্তব্ধতা—যে স্তব্ধতা ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি শাসকদের দম্ভ।


এ জাতীয় আরো খবর...