ইসলাম ধর্মের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ বা ফরজের অন্যতম একটি হলো রোজা বা সিয়াম। তবে বর্তমান সময়ে আমরা যেভাবে মাসব্যাপী রোজা পালন করি, ইসলামের শুরুর দিকে এর রূপ এমন ছিল না। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে ৩০ দিনের রোজা মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক বা ফরজ করা হয়। এর আগে রোজা ছিল মূলত নফল বা ঐচ্ছিক ইবাদত।
ইসলামে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে থেকেই মক্কা ও মদিনার বাসিন্দাদের মধ্যে রোজা রাখার প্রচলন ছিল। ইহুদি এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও সারাদিন পানাহার না করার রীতি দেখা যেত।
আশুরার রোজা: মদিনায় হিজরত করার পর ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) মদিনাবাসীকে আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখেন। হজরত মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের কবল থেকে আল্লাহ মুক্তি দিয়েছিলেন বলে তাঁরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই রোজা রাখতেন। নবীজি (সা.) নিজেও তখন থেকে এই রোজা রাখা শুরু করেন।
আইয়ামুল বিজের রোজা: এছাড়া চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখেও অনেক নবী-রাসূল ও তাঁদের অনুসারীরা রোজা রাখতেন, যা নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও মক্কায় থাকাকালীন নফল হিসেবে পালন করতেন।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দুই বছর পর অর্থাৎ হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) আল্লাহ তাআলা কোরআনের আয়াত নাজিল করে রমজানের রোজা ফরজ করেন।
কোরআনের রেফারেন্স: সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতে, মক্কায় অবতীর্ণ আয়াতগুলো ঈমান ও একত্ববাদের ওপর গুরুত্ব দিলেও মদিনায় অবতীর্ণ আয়াতগুলো ধর্মের বিভিন্ন বিধিবিধান (যেমন রোজা) প্রতিষ্ঠা করে।
শুরুর দিকে রোজার নিয়ম বর্তমানের তুলনায় কিছুটা কঠিন ছিল, যা ধাপে ধাপে সহজ ও চূড়ান্ত করা হয়:
১. ফিদইয়ার সুযোগ: শুরুতে কেউ রোজা রাখতে না পারলে তার বিনিময়ে গরিবদের খাবার বা অর্থ (ফিদইয়া) দেওয়ার সুযোগ ছিল। পরে তা বাতিল করে সুস্থ সবার জন্য রোজা বাধ্যতামূলক করা হয়।
২. সময়সীমা: প্রাথমিক অবস্থায় নিয়ম ছিল—সন্ধ্যা থেকে এশার আজান পর্যন্ত পানাহার করা যাবে। এশার পর ঘুমিয়ে পড়লে বা আজান হয়ে গেলে পরদিন ইফতার পর্যন্ত আর কিছু খাওয়া যেত না। পরবর্তীতে সাহাবীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে আল্লাহ নতুন আয়াত নাজিল করেন এবং সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার সময়সীমা চূড়ান্ত করেন।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরবের মানুষ সেহরি ও ইফতারে খুব সাধারণ খাবার গ্রহণ করতেন। ইতিহাসবিদদের মতে, তখন প্রধানত খেজুর, জমজমের পানি, দুম্বা বা উটের দুধ এবং মাংস ছিল তাঁদের খাদ্যতালিকার মূল অনুষঙ্গ।