শিরোনামঃ
৫ দিনে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কত? মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তিতে বড় ধাক্কা: কাতারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১১০ কোটি ডলারের রাডার ধ্বংস অগ্নিঝরা ৪ মার্চ: উত্তাল জনসমুদ্র আর স্বাধীনতার অদম্য শপথ ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর যাত্রা অব্যাহত থাকবে: নতুন গভর্নর দুদকের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ: সচিবালয়ে ১০ মিনিটের আনুষ্ঠানিকতায় বিদায় প্রশাসনে বড় পরিবর্তন: পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ ১২ মার্চ সংসদে উঠছে অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ‘একটি দল নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে’: শিশির মনির ইউক্রেন যুদ্ধ: রাশিয়ার হয়ে লড়তে যাওয়া শতাধিক বাংলাদেশির মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর ইরানে হামলা ও মার্কিন অর্থনীতির ‘অগ্নিপরীক্ষা’
বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভে রোজা: যেভাবে নফল থেকে ফরজ হলো সিয়াম সাধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৯ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ বা ফরজের অন্যতম একটি হলো রোজা বা সিয়াম। তবে বর্তমান সময়ে আমরা যেভাবে মাসব্যাপী রোজা পালন করি, ইসলামের শুরুর দিকে এর রূপ এমন ছিল না। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে ৩০ দিনের রোজা মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক বা ফরজ করা হয়। এর আগে রোজা ছিল মূলত নফল বা ঐচ্ছিক ইবাদত।

প্রাক-ইসলামিক যুগে রোজার রীতি

ইসলামে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে থেকেই মক্কা ও মদিনার বাসিন্দাদের মধ্যে রোজা রাখার প্রচলন ছিল। ইহুদি এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও সারাদিন পানাহার না করার রীতি দেখা যেত।

  • আশুরার রোজা: মদিনায় হিজরত করার পর ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) মদিনাবাসীকে আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখেন। হজরত মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের কবল থেকে আল্লাহ মুক্তি দিয়েছিলেন বলে তাঁরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই রোজা রাখতেন। নবীজি (সা.) নিজেও তখন থেকে এই রোজা রাখা শুরু করেন।

  • আইয়ামুল বিজের রোজা: এছাড়া চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখেও অনেক নবী-রাসূল ও তাঁদের অনুসারীরা রোজা রাখতেন, যা নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও মক্কায় থাকাকালীন নফল হিসেবে পালন করতেন।

হিজরি দ্বিতীয় বর্ষ: রোজা যখন ফরজ হলো

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দুই বছর পর অর্থাৎ হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) আল্লাহ তাআলা কোরআনের আয়াত নাজিল করে রমজানের রোজা ফরজ করেন।

কোরআনের রেফারেন্স: সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতে, মক্কায় অবতীর্ণ আয়াতগুলো ঈমান ও একত্ববাদের ওপর গুরুত্ব দিলেও মদিনায় অবতীর্ণ আয়াতগুলো ধর্মের বিভিন্ন বিধিবিধান (যেমন রোজা) প্রতিষ্ঠা করে।

রোজার প্রাথমিক নিয়ম ও বিবর্তন

শুরুর দিকে রোজার নিয়ম বর্তমানের তুলনায় কিছুটা কঠিন ছিল, যা ধাপে ধাপে সহজ ও চূড়ান্ত করা হয়:

১. ফিদইয়ার সুযোগ: শুরুতে কেউ রোজা রাখতে না পারলে তার বিনিময়ে গরিবদের খাবার বা অর্থ (ফিদইয়া) দেওয়ার সুযোগ ছিল। পরে তা বাতিল করে সুস্থ সবার জন্য রোজা বাধ্যতামূলক করা হয়।

২. সময়সীমা: প্রাথমিক অবস্থায় নিয়ম ছিল—সন্ধ্যা থেকে এশার আজান পর্যন্ত পানাহার করা যাবে। এশার পর ঘুমিয়ে পড়লে বা আজান হয়ে গেলে পরদিন ইফতার পর্যন্ত আর কিছু খাওয়া যেত না। পরবর্তীতে সাহাবীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে আল্লাহ নতুন আয়াত নাজিল করেন এবং সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার সময়সীমা চূড়ান্ত করেন।

সেহরি ও ইফতারে আরবের ঐতিহ্য

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরবের মানুষ সেহরি ও ইফতারে খুব সাধারণ খাবার গ্রহণ করতেন। ইতিহাসবিদদের মতে, তখন প্রধানত খেজুর, জমজমের পানি, দুম্বা বা উটের দুধ এবং মাংস ছিল তাঁদের খাদ্যতালিকার মূল অনুষঙ্গ।

রোজার ইতিহাস ও বিবর্তন

সময়কাল রোজার ধরন বিধান
হিজরত পূর্ব (মক্কা) আইয়ামুল বিজের রোজা (মাসে ৩ দিন) নফল (ঐচ্ছিক)
হিজরত পরবর্তী (মদিনা) আশুরার রোজা নবীজির (সা.) নির্দেশনায় পালন
হিজরি ২য় বর্ষ রমজানের পূর্ণ ৩০ রোজা ফরজ (বাধ্যতামূলক)


এ জাতীয় আরো খবর...