বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

ফিতরার হিসাব কীভাবে করা হয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮০ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ফিতরা কী? ‘ফিতরা’ বা ‘যাকাতুল ফিতর’ হলো সেই বাধ্যতামূলক দান, যা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমকে রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে আদায় করতে হয়। ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এটি নারী-পুরুষ, ছোট-বড় এবং স্বাধীন-ক্রীতদাস সবার জন্য অপরিহার্য করেছেন। এর মূল উদ্দেশ্য দুটি:

১. রোজা পালনকালীন অজান্তে হয়ে যাওয়া কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে রোজাকে পবিত্র করা।

২. অভাবী মানুষ যাতে ঈদের দিনে খাবারের কষ্ট না পায় এবং সবার সঙ্গে উৎসবে অংশ নিতে পারে তা নিশ্চিত করা।

ফিতরার হিসাব কীভাবে করা হয়?

ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী, পাঁচটি নির্দিষ্ট খাদ্যের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এই পণ্যগুলো হলো: গম বা আটা, যব, কিশমিশ, খেজুর ও পনির।

  • ওজনের পরিমাপ: সাধারণত ১ সা (প্রায় ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) বা আধা সা (প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) ওজনের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে আটা বা গমের বাজারমূল্য বিবেচনা করে একটি ‘ন্যূনতম’ ফিতরা নির্ধারণ করা হয় যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তা আদায় করতে পারে।

  • অর্থ না কি খাদ্য? সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতিসহ অনেক ওলামায়ে কেরাম মনে করেন, খাদ্যদ্রব্য (চাল, খেজুর ইত্যাদি) দিয়ে ফিতরা দেওয়া সুন্নতের অধিক নিকটবর্তী। তবে অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে সেই খাদ্যের সমপরিমাণ ‘নগদ অর্থ’ দিয়ে ফিতরা আদায়কেও বৈধ এবং দরিদ্রদের জন্য অধিক উপকারী বলে মনে করেন।

কখন ও কাকে দিতে হয়? ফিতরা প্রদানের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে ঈদের নামাজের আগ পর্যন্ত। যদি কেউ ঈদের নামাজের পরে ফিতরা দেন, তবে তা সাধারণ ‘সদকা’ হিসেবে গণ্য হবে এবং ফিতরার বিশেষ সওয়াব পাওয়া যাবে না। এটি মূলত সমাজের সেই সব মানুষকে দিতে হয় যারা অভাবী এবং যাকাত গ্রহণের যোগ্য।


এক নজরে: বিশ্বজুড়ে ফিতরার সম্ভাব্য হার (২০২৬)

দেশ ফিতরার পরিমাণ (ন্যূনতম) মন্তব্য
বাংলাদেশ আটা/গমের বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন নির্ধারণ করে।
সৌদি আরব ২৫ রিয়াল (প্রায় ৭ ডলার) খাদ্য হিসেবে দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ১২ ডলার আঞ্চলিক ইসলামিক কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত।
যুক্তরাজ্য ৬ পাউন্ড স্থানীয় মসজিদ ও চ্যারিটিগুলো এই হারে সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশে ফিতরা ২০২৬: হার ও নিয়মাবলী

ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক আটা, যব, কিসমিস, খেজুর ও পনির—এই পাঁচটি পণ্যের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে এবারের ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। সামর্থ্যবানরা তাদের পছন্দমতো যেকোনো একটি পণ্যের বাজারমূল্য অনুযায়ী ফিতরা আদায় করতে পারবেন।

ফিতরার নির্ধারিত হার (২০২৬)

ন্যূনতম হার: আটার বাজারমূল্য অনুযায়ী এ বছর জনপ্রতি ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা (১ কেজি ৬৫০ গ্রাম আটার মূল্য)।

সর্বোচ্চ হার: পনিরের বাজারমূল্য অনুযায়ী এ বছর সর্বোচ্চ ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৯৭০ টাকা (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম পনিরের মূল্য)।

যাঁদের সামর্থ্য বেশি, তাঁদের জন্য আটার পরিবর্তে খেজুর, কিসমিস বা পনিরের মূল্য দিয়ে ফিতরা দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ বলে ওলামায়ে কেরাম অভিমত দিয়েছেন।

এক নজরে: পণ্যভিত্তিক ফিতরার তালিকা (২০২৬)

খাদ্যপণ্য ওজন ফিতরার হার (টাকায়)
উন্নত মানের আটা ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম ১১৫ টাকা (ন্যূনতম)
যব ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ৪০০ টাকা
কিসমিস ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ২,১৪৫ টাকা
খেজুর ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ২,৪৭৫ টাকা
পনির ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ২,৯৭০ টাকা (সর্বোচ্চ)


এ জাতীয় আরো খবর...