বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয় এখন এক নেতৃত্বের ছায়ায়: ঘুচছে দূরত্ব, গতি ফিরছে প্রশাসনে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৯ বার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দেশের শিক্ষা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে একই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর হাতে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো থাকলেও শিক্ষার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে একই টেবিলে।

কেন এই সমন্বয়?

মন্ত্রণালয় ও সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আগে দুই মন্ত্রণালয় আলাদা নেতৃত্বের অধীনে থাকায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চরম সমন্বয়হীনতা দেখা দিত:

  • কারিকুলামের অসামঞ্জস্য: প্রাথমিক শেষ করে মাধ্যমিকে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা পাঠদান পদ্ধতি ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরণের অসামঞ্জস্যের মুখে পড়ত।

  • প্রকল্পের ভিন্নতা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন ধারায় প্রকল্প গ্রহণ করত, যার মধ্যে কোনো ধারাবাহিকতা থাকত না।

  • এনসিটিবির চ্যালেঞ্জ: দুই দপ্তরের আলাদা নির্দেশনার কারণে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সময়মতো কারিকুলাম চূড়ান্ত করতে হিমশিম খেত।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তির হুঁশিয়ারি

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দায়িত্ব নিয়েই কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন:

  • দ্রুত নিষ্পত্তি: কোনো ফাইলই ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকবে না।

  • স্ক্রিনিং পদ্ধতি: উভয় মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলই প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ‘স্ক্রিনিং’ বা পর্যবেক্ষণ ছাড়া সরাসরি মন্ত্রীর টেবিলে যাবে না।

  • এক টেবিল সিদ্ধান্ত: সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখন থেকে সমন্বিত আলোচনার ভিত্তিতে একই টেবিলে নেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদদের মূল্যায়ন ও প্রত্যাশা

এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ:

  • ড. মনজুর আহমেদ: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইমেরিটাস অধ্যাপক জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের মধ্যে ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। তবে শুধু নেতৃত্ব এক করা যথেষ্ট নয়, প্রশাসনিক কাঠামো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও প্রকৃত সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

  • রাশেদা কে চৌধুরী: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী একে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, টারশিয়ারি লেভেল পর্যন্ত একক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা অনেক দেশেই স্বীকৃত পদ্ধতি।

সুফল ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

এই ব্যবস্থার ফলে সবচেয়ে বড় সুফল আসবে কারিকুলাম উন্নয়ন ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে। আগে দুই দপ্তরের ফাইল চালাচালিতে যে সময় নষ্ট হতো, তা এখন অনেকাংশে কমে আসবে। তবে দুটি আলাদা সচিবালয় এবং হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একই মানসিকতায় নিয়ে আসা এবং দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জড়তা কাটানোই হবে ‘মিলন-ববি’ জুটির জন্য বড় পরীক্ষা।


এক নজরে নতুন শিক্ষা প্রশাসন ২০২৬

সমন্বিত শিক্ষা প্রশাসন রূপরেখা

নেতৃত্বের ধরণ ‘এক কমান্ড’ ব্যবস্থা (একই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী)
ফাইল নিষ্পত্তির সময়সীমা সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা
প্রধান লক্ষ্য কারিকুলাম ও শিক্ষক নিয়োগে গতি আনা
বিশেষ প্রক্রিয়া প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক


এ জাতীয় আরো খবর...