সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সতেজ লাগার বদলে যদি প্রচণ্ড মাথাব্যথা আর বমি বমি ভাব নিয়ে দিন শুরু হয়, তবে তা সারাদিনের কাজের মেজাজটাই নষ্ট করে দেয়। ডিহাইড্রেশন, ক্লান্তি, হজমের সমস্যা বা মানসিক চাপের মতো নানা কারণে এই যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে কারণগুলো সম্পর্কে একটু সচেতন হলে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
চলুন, সকালে মাথাব্যথা হওয়ার প্রধান কারণগুলো জেনে নিই:
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব: আপনার যদি রাতে ঠিকমতো ঘুম না হয়, তবে শরীরে ‘ফাইট হরমোন’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হয়, যা সকালের মাথাব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ।
অতিরিক্ত কফি পান: অতিরিক্ত কফি পানের অভ্যাস আপনার রাতের ঘুম নষ্ট করতে পারে। এছাড়া, আপনি যদি নিয়মিত অতিরিক্ত মাত্রায় কফি পান করেন, তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ‘ক্যাফেইন হেডেক’ বা ক্যাফেইনের অভাবজনিত মাথাব্যথা হওয়াটা খুব সাধারণ একটি বিষয়।
অ্যালকোহল গ্রহণ: রাতে অ্যালকোহল পান করলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। সামান্য পরিমাণ অ্যালকোহলও মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে, যার প্রভাব পড়ে পরের দিন সকালে।
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘুমানো: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু আপনি যদি টানা ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তবে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে মাথাব্যথার সৃষ্টি হয়।
বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন: বিষণ্ণতা মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের রুটিনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এই মানসিক অবস্থার কারণে দিনের যেকোনো সময় মাথাব্যথা হতে পারে, তবে সাধারণত সকালের দিকেই এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
‘ফিল গুড’ হরমোনের ঘাটতি: শরীরে এন্ডোরফিনের মতো ভালো লাগার হরমোনগুলোর উৎপাদন কমে গেলে তা সরাসরি সেরোটোনিনের মাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে এই যন্ত্রণাদায়ক মাথাব্যথা শুরু হয়।