মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার খুব শিগগিরই সফলতার মুখ দেখবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা জানান।
প্রবাসীদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত লাখ লাখ রেমিট্যান্স যোদ্ধার নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিরাজমান যুদ্ধাবস্থা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে ওইসব দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো প্রতিনিয়ত অত্যন্ত নিবিড় ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে মিশনগুলো সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
নতুন বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত
জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি সংসদকে জানান, শুধুমাত্র প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভর না করে সরকার এখন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং আফ্রিকার উদীয়মান দেশগুলোতে নতুন বাজার তৈরির লক্ষ্যে জোরদার কাজ চালাচ্ছে।
বাণিজ্য সম্প্রসারণের এই উদ্যোগে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধ, পাট ও পাটজাত বহুমুখী দ্রব্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের পণ্য রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন ও লাভজনক বাজার তৈরি হচ্ছে। সরকারের এই বহুমুখী কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতার ফলে আগামী দিনগুলোতে দেশের সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।