পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর পান্থপথে ‘পানি ভবন’-এ বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
খাল খনন কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ও অগ্রগতি
বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকার এই ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী তার বক্তব্যে এই কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন:
স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য: আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য: আগামী ৫ বছরে সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।
বর্তমান অগ্রগতি: সরকার ইতিমধ্যে দেশের ৫৪টি জেলায় এই খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বন্যার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে তিনিই প্রথম এই কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন।” সঠিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খননের জন্য খাল বাছাই করার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
টেকসই ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার তাগিদ
মন্ত্রী বলেন, “পানি শুধু জীবনের উৎস নয়, এটি সমতা ও ন্যায্যতারও প্রতীক। সবার জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানির নিশ্চয়তা দিয়ে একটি ন্যায়সংগত এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময় সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। বন্যা যেমন মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলে, তেমনি খরায় পানির অভাবে মানুষের জীবন-জীবিকাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন মন্ত্রী।
উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ ও দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা রোধ
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন:
পানি মানুষের জীবন, জীবিকা এবং আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
দেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে এবং দক্ষিণাঞ্চলকে লবণাক্ততার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে এখন থেকেই কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে হবে।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য আলোচকবৃন্দ
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন:
মুখ্য আলোচক: পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত।
আলোচক: বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান।
অনলাইন আলোচক: বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
স্বাগত বক্তব্য: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ।