শিরোনামঃ
মার্কিন যুদ্ধবিমানের পর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও ভূপাতিত অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির তৃতীয় দফায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার: চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন গুলশানে শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ শেষের আহ্বান জাভেদ জারিফের: তেহরানের জন্য নতুন কূটনৈতিক রূপরেখা ইরানের আকাশে চীনা ড্রোন ভূপাতিত: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে কি সরাসরি নামল সৌদি-আমিরাত? স্থগিত সিরিজ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বিসিসিআইকে বিসিবির চিঠি রাজধানীর উত্তরায় জাবির সাবেক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু এক সেতুর বদলে আটটি: ইরানের ‘হিট লিস্টে’ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সেতুসমূহ
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

নীলফামারীতে ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: সাত দিনে আক্রান্ত ২৪৩, বাড়ল হামের আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

নীলফামারী জেলায় ডায়রিয়া পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে, যেখানে গত এক সপ্তাহে আড়াই শতাধিক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত সাত দিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে মোট ২৪৩ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন, যার বড় একটি অংশই শিশু। তীব্র গরমে হঠাৎ রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়েই যন্ত্রণাদায়ক এই রোগের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, আক্রান্ত ২৪৩ জনের মধ্যে ৮০ জনই শিশু। এর মধ্যে ২১০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বাকিরা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা মনে করছেন, হঠাৎ তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর ও বাসি খাবার গ্রহণের কারণেই জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ এত তীব্র হয়েছে। ডায়রিয়ার পাশাপাশি মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, যার শিকার হচ্ছেন মূলত শিশু ও বৃদ্ধরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় খাবার স্যালাইন ও ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ডায়রিয়ার এই মহামারির মধ্যেই নীলফামারীতে নতুন করে দেখা দিয়েছে হামের আতঙ্ক। নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংক্রমণ এড়াতে তাদের সাধারণ ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে আলাদা আইসোলেশন বিভাগে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জোবায়ের নামে এক শিশুর মা বাবলি বেগম জানান, তার সন্তান প্রথমে জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগলেও ভর্তির পর শরীরে লালচে র‍্যাশ ও ফুসকুড়ি দেখা দিয়েছে, যা চিকিৎসকদের মতে হামের স্পষ্ট লক্ষণ।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে বিশুদ্ধ পানি পান করা, খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং খাবার ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।


এ জাতীয় আরো খবর...