দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় গত দুদিন ধরে মাঝারি ধরনের তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা জনজীবনকে আক্ষরিক অর্থেই স্থবির করে দিয়েছে। শুক্রবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ। তীব্র রোদের প্রখরে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পিচ গলে যেতে দেখা গেছে, বিশেষ করে পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় উত্তপ্ত পিচ নরম হয়ে আসায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় আগুনের হলকার মতো গরম অনুভূত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের টিকে থাকাকে দায় করে তুলেছে।
প্রচণ্ড এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। দিনমজুর, ভ্যানচালক ও কৃষকদের জীবন যেন ওষ্ঠাগত। মাথার ওপর প্রখর সূর্য আর পায়ের নিচে তপ্ত পিচের কারণে শ্রমিকদের পক্ষে দীর্ঘ সময় কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দিনমজুর আব্দুল করিমের মতো অনেকেই জানিয়েছেন, গরমে কাজ করতে গিয়ে বারবার মাথা ঘুরে যাচ্ছে, কিন্তু পেটের তাগিদে বাধ্য হয়েই রোদে পুড়তে হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে পথচারী, শিক্ষার্থী ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শরবত ও স্যালাইন পান করিয়ে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।
দুর্ভোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান জ্বালানি সংকট। তীব্র গরমের মাঝেও জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের শত শত মিটারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ৩-৪ ঘণ্টা তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আকাশ ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, একদিকে মাথার ওপর অগ্নিবৃষ্টি, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা—সব মিলিয়ে এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, জেলায় বর্তমানে যে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ চলছে, তা আগামী এক থেকে দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৃষ্টিরও পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। আপাতত প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চুয়াডাঙ্গার এই নজিরবিহীন দাবদাহ মূলত পুরো অঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তনের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তুলছে।