দেশের সম্প্রচার খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শিগগিরই চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে সংশোধিত সম্প্রচার নীতিমালা। নতুন এই নীতিমালায় দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে পুরোপুরি ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনার যুগান্তকারী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) এবং কেবল অপারেটরদের সংগঠন কোয়াব (COAB)-এর নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নীতিমালা সংশোধনের এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, সম্প্রচার নীতিমালায় বেশ কিছু কাঠামোগত ও ভাষাগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসও এই নীতিমালায় স্পষ্টভাবে সংযোজন করা হবে।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল টেলিভিশন খাতের আর্থিক কাঠামো পরিবর্তন। নতুন নীতিমালার আওতায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে ‘পে চ্যানেল’ (Pay Channel)-এ রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাইজেশন ও পে-চ্যানেল হওয়ার সুফল: সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রচার মাধ্যম পুরোপুরি ডিজিটাইজড হলে এর বহুমুখী সুফল পাওয়া যাবে।
স্বয়ংক্রিয় টিআরপি নির্ধারণ: ডিজিটাইজেশনের ফলে দর্শকরা কোন চ্যানেল কতক্ষণ দেখছেন, তার সঠিক টিআরপি (Television Rating Point) স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে। এর জন্য কোনো আলাদা জরিপের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি: সঠিক রেটিংয়ের কারণে চ্যানেলগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, যা সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান বা কনটেন্টের মান বাড়াতে সাহায্য করবে।
সরাসরি আয় ও বিজ্ঞাপন-নির্ভরতা হ্রাস: পে চ্যানেল হওয়ার ফলে টেলিভিশনগুলো সরাসরি গ্রাহক বা দর্শকদের সাবস্ক্রিপশন থেকে আয় করতে পারবে। এতে চ্যানেলগুলোর অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন-নির্ভরতা কমবে এবং তারা আর্থিকভাবে শক্তিশালী হবে।
সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি: পুরো সম্প্রচার ব্যবস্থা ডিজিটাইজড ও পে-চ্যানেলের আওতায় এলে আর্থিক লেনদেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আসবে, যার ফলে এ খাত থেকে সরকারেরও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় নিশ্চিত হবে।
সব মিলিয়ে এই সংশোধিত সম্প্রচার নীতিমালা দেশের টেলিভিশন শিল্পকে একটি শক্ত, আধুনিক ও স্বাবলম্বী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।