বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির বড় চিন্তা ঘরের শত্রু

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

আগামী অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বর্ষা মৌসুমের পরপরই শুরু হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো দলগুলো ইতিমধ্যে একক প্রার্থী ঘোষণা করে পুরোদমে প্রচারণায় নেমে পড়েছে। তবে ভিন্ন এক সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দলীয় প্রতীক ছাড়া হতে যাওয়া এই স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির ভেতর ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ এবং নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ সহিংসতার তীব্র আশঙ্কা করছেন দলের নীতিনির্ধারকেরা।

প্রতীকহীন নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের মতে, এবারের স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা ‘ধানের শীষ’ না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা দলের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর এই সুযোগে একই আসনে বা পদে দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নামবেন। এর ফলে দলের ভেতরের স্থানীয় দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার এবং নিজেদের নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও মারামারির ঝুঁকি rescuers বা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

প্রতীক না থাকায় সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতাই মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিগত আওয়ামী লীগ আমলের অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে বহুমুখী এবং ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

তারেক রহমানের বার্তা ও বিদ্রোহীদের সংশয়

বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বড় পরিসরে প্রথম সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা করে বিএনপি। গত ৯ মে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিএনপি এবং এর তিন সহযোগী সংগঠন—যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থানীয় নির্বাচনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, উৎসবমুখর ও প্রতিযোগিতামূলক করার সুনির্দিষ্ট বার্তা দেন।

সেই বৈঠকেই জাতীয় নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে বিভিন্ন আসনে বিএনপির নেতাদের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে দলপ্রধানের কঠোর হুশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে vote বা ভোট লড়েছিলেন। ফলে আগামী স্থানীয় নির্বাচনেও যে এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, তা নিয়ে খোদ কেন্দ্রীয় নেতারাই নিশ্চিত নন। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সংগঠনিক সম্পাদকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেন তারা সম্ভাব্য অবাধ্য প্রার্থীদের বুঝিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃণমূলে একতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

নির্বাচনের রূপরেখা ও প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন এবং প্রার্থীদের গুছিয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবুও বিএনপি এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি ও political বা রাজনৈতিক শক্তি পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বিগত সরকারের আমলে দেশের প্রায় সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং জেলা ও উপজেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদগুলো এখনো ভাঙা না হলেও অধিকাংশ চেয়ারম্যান-মেম্বার পলাতক থাকায় সেখানে ইউএনওরা বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন। এই বাস্তবতায় সরকার প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের স্থবিরতা কাটাতে চায় এবং ধাপে ধাপে পৌরসভা ও উপজেলা শেষ করে সবশেষে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ইতি টানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে নিজেদের দলের একাধিক প্রার্থী দাঁড়িয়ে গেলে ভোট ভাগাভাগির সুবিধা যে সরাসরি প্রতিপক্ষ বা অন্য দলগুলো লুফে নেবে, scenery বা সেটিই এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন


এ জাতীয় আরো খবর...