সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন

হঠাৎ করে কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ বার
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যতটুকু সচল থাকা দরকার ততটুকু সচল আমরা
থাকি না। প্রতিদিন আমরা ১০ ঘণ্টা বা এর চেয়ে বেশি সময় বসে কাজ করি।
গবেষকদের মতে, প্রতিদিন ২০,০০০ ধাপ হাঁটা দরকার অথবা কমপক্ষে
১০,০০০ কিন্তু আমরা তা করি না। গবেষণায় দেখা গেছে কোমর ব্যথা দ্বিগুণ
হারে বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো একই ভঙ্গিতে অনেকক্ষণ বসে থাকা।
সেন্টার অফ ডিজিজ কন্ট্রোলের এক জরিপে দেখা গেছে ১.৫ বিলিয়ন
মানুষ ক্রনিক ব্যথায় ভুগছেন। ক্রনিক ব্যথার জন্য ৭৭% ভাগ মানুষ
ডিপ্রেশনে ভোগে। ২০% মানুষ রাতে ব্যথার কারণে ঘুমাতে পারে না।
৫১% লোকের ব্যথার উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ক্রনিক ব্যথার মধ্যে
বেশি মানুষ ভুগে থাকে কোমর ব্যথায়। গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে কোমর
ব্যথা এমন একটি সমস্যা যে কারণে মানুষ সবচেয়ে বেশি চিকিৎসকের কাছে
গিয়ে থাকে। প্রায় ৮০ ভাগ লোক জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কোমর
ব্যথায় ভুগে থাকেন। গবেষকদের মতে, কোমর ব্যথার কারণে কর্মস্থলে
অনুপস্থিতির সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিবছর কোমর ব্যথার
জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। সারাদিনের কাজকর্মের মধ্যে একটু অসাবধানতায় ভয়ানক কোমর
ব্যথা হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ওয়াশ বেসিনে মুখ ধোয়ার সময়
কোমর ব্যথা হতে পারে। অফিসে যাওয়ার সময় জুতার ফিতা বাঁধতে গিয়ে
কোমর ব্যথা হতে পারে, কাশি দিতে গিয়ে কোমর ব্যথা হতে পারে।
সামান্য একটু সাবধানতার অভাব হলেই বিভিন্ন কারণে কোমর ব্যথা হতে
পারে।
মিসেস বন্যা খাতুন, বয়স ৫০ বছর, থাকেন বাগেরহাটে। তিনি সকালে ঘুম
থেকে উঠে ওয়াশ বেসিনে মুখ ধোয়ার সময় হঠাৎ করে কোমরে আঘাত
পান। তিনি প্রচ- কোমর ব্যথায় সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না।
চিকিৎসা:
চিকিৎসার আগে সঠিক ফিজিক্যাল এক্সামিনেশনের মাধ্যমে বের করতে
হবে রোগীর কোন স্ট্রাকচারে সমস্যা। যেমন: মাসল, টেনডন, লিগামেন্ট,
ক্যাপসুল, ডিস্ক, নার্ভ, বার্সা ইত্যাদি। এছাড়াও ল্যাবরেটরি ও রেডিও
লজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে দেখতে হবে অন্য কোনো সমস্যা আছে কিনা।
এসকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমন্বয় করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।
অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ মান্ডুলো স্কেলিটাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।
যিনি কোমর ব্যথার চিকিৎসায় পারদর্শী।
ব্যথার স্থানে ঠা-া সেঁক দিন ১০ মিনিট করে সকালে একবার ও রাতে
একবার। সেঁক দেয়ার আগে নারকেল তেল ও রসুন একসঙ্গে গরম করে
(কিছুক্ষণ গরম করার পর ব্রাউন কালার হলে তা ঠা-া করুন) উক্ত স্থানে
হালকা লাগিয়ে ঠা-া (ভেজা সুতি কাপড়ের উপর দিয়ে বরফ লাগিয়ে) সেঁক
দেবেন। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে—দু’ হাত কোমরের পিছনে রেখে মাথা ও কাঁধ
পিছনের দিকে বাঁকা করুন পাঁচবার। প্রতিবারে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন।
এভাবে ধরে রাখাকে ১০-১৫ সেকেন্ড-এ নিয়ে যাবেন। এ ব্যায়াম দিনে
২বার করুন। প্রতিবারে ১০-১৫ বার।
মি. জুনায়েদ চৌধুরী, বয়স ৩৪, থাকেন নারায়ণগঞ্জ, ওজন ৮৬ কেজি।
পেশায় ব্যবসায়ী। গত তিন বছর ধরে কোমরের ব্যথায় ভুগছেন। গত
১২দিন যাবত অনেক বেশি ব্যথা। এমআরআই রিপোর্টে বলা হয়েছে এল-৪,
এল-৫ ডিস্ক হার্নিয়েশন আছে। চিকিৎসা:
প্রথমেই কোমর ব্যথার সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। সে অনুযায়ী
অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। কোমর ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। সে
কারণগুলো বের করতে হবে, কেন এবং কোন স্ট্রাকচার অসুস্থতার
জন্য কোমর ব্যথা হচ্ছে। যেমন: কোমরের অনেক মাংস আছে। কোমরের
কোন মাংস অসুস্থ বা কোন টেনডন অসুস্থ এবং নাত কট জুরামেটার,
লিগামেন্ট, ডিস্ক ইত্যাদির অসুবিধার কারণে বাধা হয়। এছাড়াও মাংসের
দুর্বলতা, ইলিয়ামের আপল্লিগ এবং ভঙ্গি/পোল্ডারের অসুবিধার জন্য ব্যথা
হতে পারে।
এ সমস্ত স্ট্রাকচারের আলাদা আলাদা পরীক্ষা আছে। অ্যাসেসমেন্ট যেমন:
কোমরের ব্যথা কোমরের ডানদিক থেকে কখনো কখনো ডান পায়ে নেমে
আসে। ডান পা বিছানা থেকে ২৩ ইঞ্চি উঠাতে পারে। কাশি দিলে কোমরে
ব্যথা হয়। বেড মবিলিটিতেও ব্যথা হয়। দু’হাঁটু বুকের দিকে আনলে কোমরে
ব্যথা লাগে। সোয়াল মাসল টেস্ট পজেটিভ।
উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ওঠালে ভালো লাগে কিন্তু পিঠের মাংস দুর্বল। লাম্ব
স্যাকরাল রিজিওনে চাপ দিলে ব্যথা হয়।
এছাড়াও ল্যাবে নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে বের করতে হবে
কোন স্ট্রাকচার অসুস্থ। এ অসুস্থ স্ট্রাকচারকে সঠিক চিকিৎসা দিলে আশা
করি কোমর ব্যথা চলে যাবে।
খাদ্য তালিকা:
এমন অনেক খাবার আছে যেগুলো ব্যথা কমায় সেসব খাবার খেতে হবে।
যেমন: খেজুর, কালো জিরা, অলিভ অয়েল, তরমুজ ইত্যাদি খাবার ব্যথা
কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত খাওয়ার
পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে। গরু, খাসি এবং মহিষের মাংস
খাওয়া যাবে না। প্রতিদিন ৩০ মিনিট গায়ে রোদ লাগান। ধূমপান বর্জন
করতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। বিশেষভাবে মনে রাখবেন, ব্যায়াম
ব্যথা কমায়। সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা কোমর ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়।
ব্যথাময় জীবনে আবদ্ধ না থেকে সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন।
ব্যথামুক্ত জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ থাকুন।


এ জাতীয় আরো খবর...