শিরোনামঃ
দৈনিক দিনবদল: প্রিন্ট ভার্সন : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ চরমোনাই পীরের বাসায় তারেক রহমান টিআইবির প্রতিবেদন: তারুণ্যনির্ভর সংসদে কোটিপতি ও ব্যবসায়ীদের দাপট, আ.লীগের ‘নীরব’ অংশগ্রহণ শপথের মাহেন্দ্রক্ষণ ও ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রত্যাশা কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে: নিহত ২, আহত ৫ ৪ দিন পর সচল আখাউড়া স্থলবন্দর: ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য হাতিয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ: অতিরঞ্জিত রাজনৈতিক ইস্যু না অন্যকিছু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন মন্ত্রিসভায় তারুণ্যের চমক: অভিজ্ঞদের পাশাপাশি আলোচনায় শরিক নেতারাও ‘মুখ খুললে অনেকের প্যান্ট খুলে যাবে’: দেশ ছেড়ে ফয়েজ তৈয়বের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার: ৮ হাজার কোটি টাকা আয় করেও সরকারকে এক টাকাও দেয় নি ওরিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | বিশেষ প্রতিবেদন / ১০ বার
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রাজধানীর প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান রুটে যানজট নিরসনে নির্মিত দেশের দীর্ঘতম ফ্লাইওভার ‘মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার’। প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই উড়ালসড়ক দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ গাড়ি চলাচল করলেও গত সাড়ে ছয় বছরে টোল বাবদ আয়ের একটি টাকাও সরকারের কোষাগারে জমা পড়েনি। উল্টো চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবদার জানিয়েছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।

এশিয়া পোস্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে টোল আদায়ের এই ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র।

২৩৯২ দিন: আয় ৮ হাজার কোটি, সরকারের প্রাপ্তি শূন্য

২০১৩ সালে চালু হওয়া এই ফ্লাইওভারটি দেশের প্রথম পিপিপি (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) প্রকল্প। চুক্তি অনুযায়ী, টোল আদায়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সরকারের পাওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তথ্য বলছে, গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত টানা ২ হাজার ৩৯২ দিন বা প্রায় সাড়ে ছয় বছরে টোল আদায়ের কোনো অর্থ সরকারকে বুঝিয়ে দেয় নি ওরিয়ন।

হিসাব অনুযায়ী, এই ফ্লাইওভার দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। সেই হিসেবে বছরে টোল আদায় হয় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। গত সাড়ে ছয় বছরে ওরিয়ন গ্রুপ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা টোল আদায় করলেও সরকারের প্রাপ্তির খাতা শূন্যই রয়ে গেছে।

গাড়ির সংখ্যা নিয়ে লুকোচুরি

সরকারকে লভ্যাংশ না দেওয়ার অজুহাত হিসেবে ওরিয়ন গ্রুপ বরাবরই ‘পর্যাপ্ত গাড়ি না চলা’র দোহাই দিয়ে আসছে। ২০২০ সালে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস যখন বিষয়টি নিয়ে ওরিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখনও তারা দাবি করেছিল—চুক্তি অনুযায়ী পর্যাপ্ত গাড়ি না চলায় তারা লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য এই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। সওজ-এর হিসাবমতে, ফ্লাইওভারটি দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ হাজার গাড়ি চলে। বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৭০ কোটি ৮০ লাখের ওপরে। অথচ ওরিয়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না।

উল্টো মেয়াদ বৃদ্ধির আবদার

টোলের টাকা পরিশোধ না করলেও ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসির কাছে চুক্তির মেয়াদ আরও ২ হাজার ৩৪ দিন (প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর) বাড়ানোর আবেদন করে। বকেয়া পরিশোধ না করে উল্টো মেয়াদ বাড়ানোর এই আবদার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিটি কর্পোরেশন।

ডিএসসিসির পদক্ষেপ ও অসম চুক্তি

টাকা আদায়ের জন্য সিটি কর্পোরেশন একাধিকবার ওরিয়নকে চিঠি দিলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ।

অন্যদিকে, ডিএসসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, “সে সময় যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা জেনে বা না বুঝেই একটি অসম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।” এছাড়া প্রতি তিন বছর পর পর টোল আদায়ের মূল্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

গাড়ির প্রকৃত সংখ্যা ও আয় বের করতে গত ১১ নভেম্বর ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ডিএসসিসি। কমিটির প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ওরিয়নের নীরবতা

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি ওরিয়নের হটলাইন নম্বরে বারবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জনগণের টাকায় নির্মিত অবকাঠামো ব্যবহার করে হাজার কোটি টাকা আয় করলেও রাষ্ট্রের পাওনা পরিশোধ না করার এই নজিরবিহীন ঘটনা এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।


এ জাতীয় আরো খবর...