ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন—এমন খবরে পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হলেও অন্তর্বর্তী সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে বাহিনীর নেতৃত্বে যে পরিবর্তন আসছে, তা অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এবার পুলিশের নেতৃত্ব নির্বাচনে ‘ক্লিন ইমেজ’ বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাহিনীর গতিশীলতা ফেরাতে বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের নামই শোনা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
কেন এই পরিবর্তন?
বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম গত বছরের ২১ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরে তার অবসরে যাওয়ার কথা। তবে বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত প্রতিবেদনের জেরে তার নাম আলোচনায় আসায় এবং গত বছর তার অপসারণ চেয়ে রিট (যা পরে খারিজ হয়) হওয়ার প্রেক্ষাপটে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার সরে যাওয়াকে সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন অনেকে।
নতুন আইজিপি হিসেবে যাদের নাম আলোচনায়
১. আলী হোসেন ফকির: আইজিপি হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। বিসিএস ১৫ ব্যাচের বাগেরহাটের এই সন্তান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক রোষানলের শিকার হয়ে দুইবার চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে গিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি পদ ফিরে পান। বাহিনীতে তিনি একজন চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।
২. আনসার উদ্দিন খান পাঠান: আলোচনায় আছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক (গ্রেড-১) এবং পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনসার উদ্দিন খান পাঠান। সৎ, দক্ষ এবং ‘মানবিক পুলিশ অফিসার’ হিসেবে বাহিনীতে তার ব্যাপক সুখ্যাতি রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে সততার কারণে নিগৃহীত হওয়া নেত্রকোনার এই সন্তান ২০২২ সালে অবসরে যান। তরুণ পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবেও সমাদৃত।
৩. হাসিব আজিজ: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বর্তমান কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজও আছেন সংক্ষিপ্ত তালিকায়। ১৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বাবা এম আজিজুল হকও একসময় পুলিশের আইজিপি ছিলেন। শরীয়তপুরের সন্তান হাসিব আজিজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে সিএমপির দায়িত্ব নেন।
সিদ্ধান্ত হবে মন্ত্রিসভায়
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রিসভা গঠিত হলে আইজিপি নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে যারাই নেতৃত্বে আসুক, পুলিশকে জনবান্ধব ও বিতর্কমুক্ত করাই হবে নতুন নেতৃত্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।