মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশের অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি আজ প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এরপর তারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন।
বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু এবং অর্থমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
জ্বালানি আমদানিতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে যে বাড়তি খরচ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রাথমিক কথা হয়েছে। আগামী এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য ‘স্প্রিং মিটিংয়ে’ এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাস পার হয়েছে। এর মধ্যেই রমজান মাস এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। অতীতের সরকারগুলো ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রেখে গেছে। তবে সঠিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে এই এক মাসে বেশ কিছু সফলতা এসেছে:
জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও ঈদে পরিবহন ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা বা ভাড়া বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি।
দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে।
তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়নি।
চলমান বৈশ্বিক সংকটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দেশবাসীর কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যেহেতু যুদ্ধে সরকারের কোনো হাত নেই এবং আমরা স্রেফ ভুক্তভোগী, তাই সাধারণ মানুষকে এখন কিছুটা সংযমী ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। সরকার একা সবকিছু করতে পারবে না, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
আইএমএফের আটকে থাকা ঋণ ছাড় এবং শর্ত পূরণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইএমএফের সব শর্ত এক ধাক্কায় পূরণ করা সম্ভব নয়। অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য এগুলো ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী এপ্রিলে ওয়াশিংটনের বৈঠক এবং জুলাই মাসে ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী রিভিউতে এ নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থমকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় সচল (রিভাইভ) করার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সামনে যা নেওয়া হবে, তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন আগামী বাজেটেই দেখতে পাবে দেশবাসী—এমনটাই আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।