দীর্ঘ ১৭ বছরের দলীয়করণ এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে প্রশাসনে উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব—এই চার স্তরে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বঞ্চিত ও পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভাগ্যের দ্বার খুলতে যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন বাতিল
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যাপকভাবে দলীয়করণ করা হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ফ্যাসিস্ট চেতনার ব্যক্তিদের বসানো হয়েছিল। এমনকি বিগত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সুবিধাভোগীদের পদায়ন করা হয় এবং যোগ্যদের বঞ্চিত রাখা হয়। এই বৈষম্য দূর করতে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে (১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে) জারি করা বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপনটি (নম্বর: ০৫.০০.০০০০.১৩০.১২.০০৪.২৪.৮১৮) বাতিল করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২-এর প্রথম তফসিলের আলোকে প্রশাসন ক্যাডারের বিবেচিত নিয়মিত ব্যাচের সাথে অন্যান্য সকল ক্যাডারের সমপর্যায়ের সিনিয়র স্কেল পদে কর্মরত কর্মকর্তারাও নিয়মিত ব্যাচ এবং পূর্ববর্তী ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও বঞ্চিতদের সুযোগ
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি জোরালো হয়। এর প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ৭৬৮ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর মধ্যে:
সচিব পদে: ১১৯ জন
গ্রেড-১ পদে: ৪১ জন
অতিরিক্ত সচিব পদে: ৫২৮ জন
যুগ্মসচিব পদে: ৭২ জন
উপসচিব পদে: ৪ জন
এছাড়া, প্রশাসন ক্যাডারের ১৫ থেকে ২২তম ব্যাচের বঞ্চিত উপসচিবরা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পাবেন। একই সাথে ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তারাও একযোগে পদোন্নতির আওতায় আসবেন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন ফিট লিস্ট করে যোগ্যদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ জীবনযাপন ও প্রশাসনে গতি
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে বিএনপি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত আচরণ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রোটোকল কমানো, যাতায়াতের জন্য ভিআইপিদের মতো রাস্তা বন্ধ না রাখা এবং যানজটে সাধারণ মানুষের মতো আটকে থাকার দৃশ্য জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী নিজে সকাল ৯টায় সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী ও আমলাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, যার ফলে সরকারি কাজে ব্যাপক গতি ও জবাবদিহিতা ফিরে এসেছে। ২৮ দিনে ২৮টি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে, জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিকও।